উৎসবের দিনগুলোতে নিজেদের সুন্দর ও প্রাণবন্ত দেখাতে আমরা সবাই পছন্দ করি। তবে সারাদিনের ক্লান্তি আর ব্যস্ততার পর ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে আমরা প্রায়ই আলসেমি করি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললে ত্বকে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রথমত, ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করা অপরিহার্য। বাইরে বা ঘরে—দিনটি যেভাবে কাটুক না কেন, ত্বকের রোমকূপে জমে থাকা ঘাম, তেল ও ময়লা দূর করতে ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া উচিত। যারা মেকআপ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য 'ডাবল ক্লিনজিং' করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে কটন প্যাডের সাহায্যে নারকেল তেল, অলিভ অয়েল কিংবা মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহার করে প্রথমে মেকআপ সরিয়ে নিতে হবে, এরপর ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজারের ব্যবহার জরুরি। ফেসওয়াশ ব্যবহারের ফলে ত্বক কিছুটা শুষ্ক হয়ে যায়, তাই মুখ হালকা ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগানো কার্যকর। রাতে ঘুমানোর কিছু আগে কিছুটা ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত, যাতে ত্বক তা ভালোভাবে শুষে নিতে পারে এবং ঘুমের সময় বিছানায় লেগে নষ্ট না হয়।

তৃতীয়ত, ত্বকের নির্দিষ্ট সমস্যা যেমন—ব্রণ বা কালো দাগ দূর করতে বিশেষ উপাদানযুক্ত (Active Ingredients) সিরাম বা ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পর এই পণ্যগুলো ব্যবহার করা সবচেয়ে উপযোগী, কারণ অনেক অ্যাক্টিভ উপাদান সূর্যের আলোতে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে মনে রাখতে হবে, রাতে এমন পণ্য ব্যবহার করলে পরদিন সকালে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

চতুর্থত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে নিয়মিত বালিশের কভার পরিবর্তন করা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় একই কভার ব্যবহার করলে সেখানে ধুলোবালি ও ব্যাকটেরিয়া জমে, যা ত্বকে র‍্যাশ বা ব্রণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যাদের খুশকির সমস্যা রয়েছে, তাদের প্রতি এক থেকে দুই দিন অন্তর কভার বদলে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমালে ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা অকাল বার্ধক্য রোধ করে এবং বয়সের ছাপ পড়তে দেরি করে। তাই ঘুমের পরিবেশ উন্নত করতে ঘরের আলো কমিয়ে রাখা এবং স্মার্টফোনের নীল আলো (Blue Light) থেকে দূরে থাকা উচিত। একান্ত প্রয়োজনে ফোনে ব্লু লাইট ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমেই উৎসবের সময় ত্বককে রাখা সম্ভব তারুণ্যদীপ্ত ও উজ্জ্বল।