রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস+ ফ্যাশন সামিটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে দ্বিতীয়বারের মতো অংশগ্রহণ করলেন আর্কা ফ্যাশন উইকের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ও প্রতিষ্ঠাতা আসাদ সাত্তার। ২০২৬ সালের ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনের মূল অধিবেশনে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ফ্যাশনের মাধ্যমে কীভাবে সাংস্কৃতিক প্রভাব বা 'সফট পাওয়ার' তৈরি করা যায় এবং সংস্কৃতির রূপরেখা গঠন করা সম্ভব, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।
আসাদ সাত্তারের মতে, বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশ মূলত তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে সুপরিচিত। তবে তিনি মনে করেন, কেবল উৎপাদন নয়, বরং দেশের নিজস্ব নকশা, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং সৃজনশীলতার গল্পগুলো আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ফ্যাশনকে তিনি শিল্পের প্রবেশদ্বার হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ছবি আঁকা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানোর দক্ষতা সবার না থাকলেও পোশাক পরা একটি দৈনন্দিন অভ্যাস, তাই ফ্যাশনের মাধ্যমেই সাধারণ মানুষ শিল্পের সংস্পর্শে আসতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, পোশাকের একটি নির্দিষ্ট বাজারমূল্য থাকলেও একটি স্বতন্ত্র নকশার পেছনে থাকে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, যা যেকোনো বাণিজ্যিক প্রচারণার চেয়ে বেশি কার্যকর ও দূরগামী হতে পারে। তাঁর এই চিন্তাধারারই প্রতিফলন ঘটেছে 'আর্কা' নামে, যার অর্থ সূর্য। আসাদ সাত্তার স্পটলাইটের সাথে সূর্যের তুলনা করে জানান, স্পটলাইটের আলো সীমিত পরিসরে একজনের ওপর পড়ে, কিন্তু সূর্য প্রতিদিন উদিত হয়ে সবাইকে আলো দেয়। একইভাবে, দীর্ঘমেয়াদী সাংস্কৃতিক প্রভাব তৈরি করতে হলে একক কোনো ব্যক্তির চেয়ে একটি শক্তিশালী সৃজনশীল পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা নিয়মিত নতুন প্রতিভাকে উৎসাহিত করবে। তাঁর ভাষায়, প্রকৃত সফট পাওয়ার অর্জনের জন্য একটি 'সূর্য' গড়ে তোলা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ফ্যাশন শিল্পে নকশার উন্নয়ন ও সৃজনশীলতার প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে আর্কা ফ্যাশন উইক। আগামী ৪ থেকে ৬ ডিসেম্বর ঢাকার আলোকিতে পুনরায় অনুষ্ঠিত হবে আর্কা ফ্যাশন উইক। এবারের আয়োজনে ব্রিকস+ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ফ্যাশন প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে আর্কার যে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা তৈরি হয়েছে, তা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নকশা ও সৃজনশীলতাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুনভাবে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।




