শরতের আগমনে রাজধানী ঢাকার ভেতরেই প্রকৃতির এক অপরূপ দৃশ্য তৈরি হয়েছে আফতাবনগরের সানভ্যালি আবাসনে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এই এলাকার কাশবনের ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ এখানে ভিড় করছেন। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে এক টুকরো নির্মল প্রকৃতির স্বাদ পেতে প্রকৃতিপ্রেমীরা এখন এই গন্তব্যের দিকে ঝুঁকছেন।
আফতাবনগরের মূল সড়ক থেকে ভেতরের দিকে প্রবেশ করলে শহরের পরিচিত কোলাহল ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায় এবং গ্রামীণ পরিবেশের আভাস পাওয়া যায়। রাস্তার দুপাশে দেখা যায় সবুজ মাঠে গরু-মহিষের পাল এবং সারি সারি সেগুন চারা, জারুল, সোনালু, পলাশ ও কৃষ্ণচূড়ার মতো দৃষ্টিনন্দন গাছ। এই আবাসন প্রকল্পের বিশাল ফাঁকা জমিতে প্রাকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছে শুভ্র কাশফুলের সমুদ্র। যেহেতু এই আবাসিক এলাকার নির্মাণকাজ এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি, তাই নিচু জমিতে কাশফুলের এই বিস্তৃতি আরও মনোরম হয়ে উঠেছে।
এই কাশবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ হলো রংধনুর সাত রঙে সাজানো একটি গোলচত্বর। সাদা কাশফুলের শুভ্রতার সাথে এই রঙিন চত্বরের বৈপরীত্য জায়গাটিকে ছবির মতো সুন্দর করে তুলেছে, যা ইন্টারনেটে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। দর্শনার্থীরা এখানে এসে প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটান এবং কাশফুলের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। এছাড়া এলাকায় একটি সিকিউরিটি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে, যেখান থেকে পুরো কাশবনের দৃশ্যটি অনেকটা ড্রোন ক্যামেরার মতো ওপর থেকে উপভোগ করা যায়। দূর-দূরান্ত থেকে, এমনকি সাভারের মতো এলাকা থেকেও অনেকে একাকী বা পরিবার নিয়ে এখানে ঘুরতে আসছেন।
যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পর্কে বলা হয়, ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে প্রথমে আফতাবনগরের ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির গেটে পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে অটোরিকশায় করে প্রায় ১০০ টাকা ভাড়ায় সরাসরি সানভ্যালির কাশবনে যাওয়া সম্ভব। এছাড়া মিনিবাসে করে বটতলায় গিয়ে সেখান থেকে অটো নিয়ে এখানে আসা যায়। আবার যারা নতুনবাজার দিক থেকে আসবেন, তারা ১০০ ফিট রাস্তা হয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) পথ ধরে এই স্থানে পৌঁছাতে পারবেন।
দর্শনার্থীদের জন্য কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু কাশফুলের মৌসুম অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, তাই সময় থাকতেই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার কথা বলা হয়েছে। রোদের তীব্রতা এড়াতে এবং শরতের প্রকৃত রূপ উপভোগ করতে ভরদুপুরের পরিবর্তে সকাল অথবা বিকেলের সময়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সবশেষে সতর্ক করা হয়েছে যে, সন্ধ্যার পর এই এলাকাটি অত্যন্ত নির্জন হয়ে পড়ে, তাই নিরাপত্তা বিবেচনা করে সন্ধ্যা নামার আগেই ফেরার পথ ধরা শ্রেয়।




