ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের দত্তপাড়ায় অবস্থিত বীরেশ দিঘিতে শুরু হয়েছে এক রোমাঞ্চকর বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা। শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনটি চলবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য ২৬ জন শিকারি প্রত্যেকে ২৬ হাজার টাকা করে টিকিট কিনেছেন, যার ফলে আয়োজকদের মোট সংগ্রহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকায়।

প্রতিযোগীদের জন্য মোট ৬টি আকর্ষণীয় পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার সর্বমোট মূল্য ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পুরস্কারের বিন্যাস অনুযায়ী, প্রথম স্থান অধিকারকারী পাবেন ২ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে মিলবে ১ লাখ টাকা এবং তৃতীয় পুরস্কারের মূল্য ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ পুরস্কারের জন্য যথাক্রমে ৪৫ হাজার, ৪০ হাজার এবং ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আয়োজকদের মতে, অতীতে এমন উদাহরণ ছিল যেখানে একজন প্রতিযোগী প্রথম তিনটি পুরস্কারই জিতে নিয়ে সাড়ে তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পৌনে তিন একরের এই বিশাল দিঘির চারপাশে ২৬টি নির্ধারিত মাচায় বসে অত্যন্ত মনোযোগের সঙ্গে মাছ শিকারে ব্যস্ত শিকারিরা। লটারির মাধ্যমে তাঁদের আসন বণ্টন করা হয়েছে। কেউ বিশেষ খাবার তৈরি করে মাছ টানার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ গভীর মনোযোগে বড়শির অপেক্ষা করছেন। মাঝে মাঝে বড় মাছ ধরা পড়লে শিকারি এবং তাঁদের সহযোগীদের মধ্যে ব্যাপক হইহুল্লোড় সৃষ্টি হচ্ছে, যা দেখতে দিঘির পাড়ে দর্শকদের ভিড় জমেছে।

শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ইলিয়াছ হোসেন ৪ কেজি ৬৭৫ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা মাছ ধরে বর্তমানে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আর কোনো বড় মাছ ধরা পড়েনি। আয়োজকদের তথ্যমতে, দিঘিতে ৫ থেকে ৮ কেজি ওজনের কাতলা ও রুই মাছ রয়েছে। এই প্রতিযোগিতায় কেবল স্থানীয়রা নন, বরং ঢাকা, কিশোরগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ থেকেও শৌখিন শিকারিরা এসেছেন। টিকিটের মূল্য ছাড়াও একজন শিকারির আনুষঙ্গিক খরচ ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা হয়। আবার অনেকে পেশাদার শিকারি ভাড়া করেছেন, যাদের পারিশ্রমিক ৩ থেকে ৫ হাজার টাকার মতো।

দিঘিটির মালিকানা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর পরিবারের। সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প নামক একটি সমিতি ৯০ লাখ টাকায় এই দিঘিটি বন্ধক নিয়েছে। এই সমিতির মাধ্যমেই প্রতি বছর কয়েকবার এমন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যার মধ্যে এটি চলতি বছরের সপ্তম আয়োজন। সমিতির সভাপতি আলী মিয়া জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শৌখিন শিকারিদের আকৃষ্ট করতেই প্রতি বছর এই বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়।