দেশের প্রথম সারির জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার টুইংক ক্যারলের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল ‘নকশা’ পত্রিকার প্রচ্ছদে নিজের ছবি দেখা। গত ১৩ আগস্ট নিজের ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেন তিনি। কিশোর বয়স থেকে নিয়মিত ‘নকশা’ পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, একসময় তার ডায়েরিগুলো ‘নকশা’ থেকে কেটে রাখা লেখা ও ছবিতে ভরা থাকত। নিজেকে সুন্দর না লাগলেও প্রচ্ছদে নিজের ছবি দেখার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই পোস্টের জবাবে ‘নকশা’ জানায়, ‘আমরা দেখেছি। আমরা শুনেছি। আমরা অবশ্য এটি এড়িয়ে যাব না।’ আর সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ীই ‘নকশা’র প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছেন টুইংক ক্যারল।

কোভিড-১৯ মহামারির সময়টি অনেকের জন্য কঠিন হলেও টুইংক ক্যারলের কাছে ছিল সৃজনশীল কাজে ভরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ থাকায় প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মেকআপ করে তিনি ভিডিও বানানো শুরু করতেন। সারা দিন ভিডিও তৈরি আর রাতে সেগুলো এডিট করার মধ্যে দিয়ে কেটে যেত তার সময়। ওই সময়ে তৈরি করা কনটেন্টের কারণেই ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার অনুসারী বাড়তে থাকে। মহামারি শেষে ব্র্যান্ডগুলো থেকে কাজের প্রস্তাব আসা শুরু হলে তিনি উপলব্ধি করেন, এই পেশাই তার জন্য সঠিক।

বর্তমানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হওয়ার পথ অনেক সহজ হয়ে গেছে বলে মনে করেন টুইংক ক্যারল। তবে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এখন প্রায় সবাই একই ধরনের কনটেন্ট তৈরি করছেন। শুরুতে পাঁচজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর থাকলে তাদের কাজে বৈচিত্র্য থাকত, কিন্তু এখন পাঁচজন মেয়ের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঢুকলে তাদের মনে হয় যেন একই রকম। নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করাই এখন সময়ের দাবি।

নিজের কাজের ধরন সম্পর্কে টুইংক ক্যারল বলেন, তার কনটেন্ট বানানো মূলত মুড ও জীবনযাপনের ওপর নির্ভর করে। কখনো হঠাৎ নাচতে ইচ্ছা করলে তিনি নাচের কনটেন্ট বানান, আবার কিছুদিন কাজ করে টাকা সঞ্চয়ের পর ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। ভ্রমণের সঙ্গে ফ্যাশন কনটেন্টও তৈরি হয়ে যায়। অবসর সময় পেলে তিনি সিনেমা বা সিরিজ দেখতে ভালোবাসেন। পুরোনো ক্লাসিক বলিউড সিনেমার মধ্যে ‘দেবদাস’ তার অন্যতম প্রিয়। এ ছাড়া থ্রিলার ও রহস্যধর্মী সিনেমা-সিরিজও তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে।

শারীরিক ফিটনেসের জন্য আলাদা কোনো পরিশ্রম করেন না তিনি। আগে নিয়মিত নাচের অনুশীলন করতেন, ফলে ওজন বাড়ার সুযোগ ছিল না। এখন নাচের অনুশীলন কমে যাওয়ায় ওজন কিছুটা বেড়েছে। বাসায় মাঝে মাঝে ওয়ার্কআউট করেন, তবে তা খুবই কম। ভ্রমণ তার অন্যতম প্রিয় কাজ। প্রতিবছর পরিবারের সঙ্গে অন্তত একটি বিদেশ ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন। ভ্রমণের সময় তিনি ইনস্টাগ্রামে স্থানীয় মানুষের শেয়ার করা তথ্য থেকে লুকানো জায়গা, ছোট ক্যাফে বা কম পরিচিত দর্শনীয় স্থান খুঁজে বের করেন।

নিজের মেকআপ নিজেই করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন টুইংক ক্যারল। তার মতে, অনেকে অতিরিক্ত মেকআপ করে চেহারা বদলে ফেলেন, যা তার পছন্দ নয়। ‘যত কম তত ভালো’ এই নীতিতে বিশ্বাসী তিনি। তৈলাক্ত ত্বকের কারণে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় বেশি প্রসাধনী ব্যবহার করেন না। পর্যাপ্ত ঘুমকে তিনি সবচেয়ে বড় বিউটি রুটিন মনে করেন। আট ঘণ্টা ঘুমাতে পারলেই নিজেকে সতেজ লাগে বলে জানান তিনি। আগে কোমর পর্যন্ত লম্বা চুল থাকলেও এখন মাঝামাঝি লম্বায় এলে ছোট করে ফেলেন। প্রাণবন্ত লুকের জন্য ভলিউম করে কাটা চুল তার বেশি পছন্দ।

নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য টুইংক ক্যারলের পরামর্শ হলো, নিজের একটি আলাদা পরিচয় বা ঘরানা তৈরি করা। এমন একটি বিষয় নির্ধারণ করা, যেটা দেখলেই মানুষ বুঝতে পারবে এটি তার কনটেন্ট। নাচকে নিজের কনটেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সব সময় রেখেছেন তিনি। হলি ক্রস কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগ থেকে কত্থক নৃত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। তার মতে, নাচের এই একাডেমিক শিক্ষা তাকে সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে ভাবতে ও কাজে সেগুলো প্রয়োগ করতে সাহায্য করেছে। মায়ের চাকরির কারণে বারবার স্কুল পরিবর্তনের অভিজ্ঞতাও তার ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রেখেছে।

ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের অনেক ইচ্ছা রয়েছে তার। চঞ্চল চৌধুরী ও প্রীতম হাসানের মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি। পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে তার পরিকল্পনা আরও সুদূরপ্রসারী।