কলেজে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি এখন শুধু টুইন এক্সএল বেডশিট আর শাওয়ার ক্যাডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে অনেক পরিবার তাদের সন্তানের অস্থায়ী ডরম রুমকে সুপরিকল্পিত ও নান্দনিকভাবে সাজাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। কাস্টম হেডবোর্ড, ওয়ালপেপার, ম্যাচিং বেডিং এবং পেশাদারভাবে স্থাপিত সাজসজ্জার জন্য অভিভাবকরা এখন হাজার হাজার ডলার খরচ করতে দ্বিধা করছেন না। এই প্রবণতা একটি সম্পূর্ণ শিল্পে রূপ নিয়েছে এবং টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে বিলাসবহুল রুম ডিজাইনের ভিডিও নিয়মিত ভাইরাল হচ্ছে।

এমন এক সময়ে এই বাড়তি খরচ দেখা দিচ্ছে যখন যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরে পড়ার খরচ প্রায় এক লক্ষ ডলারে পৌঁছেছে বা ছাড়িয়ে গেছে। সিএনবিসির এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই খরচের মধ্যে টিউশন, ফি, রুম অ্যান্ড বোর্ড, বই, পরিবহন এবং অন্যান্য ব্যয় অন্তর্ভুক্ত। জাতীয় খুচরা ফেডারেশন এবং প্রসপার ইনসাইটস অ্যান্ড অ্যানালিটিক্সের তথ্য অনুযায়ী, এবার স্কুল প্রস্তুতিতে মোট ১০৩.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা গত বছরের ৮৮.৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এর মধ্যে ডরম ও অ্যাপার্টমেন্ট আসবাবপত্রে রেকর্ড ১৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে, যা গত বছর ছিল ১২.৮ বিলিয়ন ডলার।

যদিও গড়ে একটি পরিবার এই খাতে ১৯৪ ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করছে, তবে ক্রমবর্ধমান জমকালো ডরম সাজসজ্জা এই খরচকে হাজার ডলারে পৌঁছে দিতে পারে। দামের এই অংক হয়তো অনেকের কাছে অযৌক্তিক মনে হতে পারে, কিন্তু যারা এই ঘরে থাকবেন তাদের কাছেই এর যৌক্তিকতা। জেমস মেডিসন ইউনিভার্সিটির নবীন শিক্ষার্থী হেনলি বেডওয়েল অ্যাক্সিওসকে বলেন, “আপনার সন্তান এখানে আগামী নয় মাস থাকবে, তাই কেন তাদের আরামদায়ক পরিবেশ দেওয়া হবে না?”

মেরি মার্গারেট ডিজাইনসের প্রতিষ্ঠাতা শেলি গেটস এই রীতির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত। ২০২০ সালে মিসিসিপি স্টেটে নিজের মেয়ের ডরম রুম সাজিয়ে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করার পর তিনি এই ব্যবসা শুরু করেন। গ্রীষ্মের ছুটির পার্টটাইম কাজ হিসেবে শুরু হলেও এটি এখন তার পূর্ণকালীন পেশা। লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে নিজের ডরম ছিল “মূলত কারাগারের কুঠুরির মতো” — মন্তব্য তার। কিন্তু আজ তিনি যে সব রুম ডিজাইন করেন তাতে থাকে কাস্টম ডেস্ক ক্যানোপি, রিমোট-কন্ট্রোলড ঝাড়বাতি এবং শিল্পীর আঁকা ছবি। গেটস এ বছর প্রায় ৩৫টি ডরম রুমের কাজ করছেন, এবং তার আগের কিছু প্রকল্পের খরচ ২০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে, যাকে তিনি চার বছরের বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরেন। “আমি চাই এই শিল্পকর্মটি কলেজের স্মৃতি হয়ে থাকুক, এমন কিছু নয় যা তারা বড় হয়ে ফেলে দেবে,” বলেন তিনি।

তবে এক লক্ষ ডলারের কলেজ অভিজ্ঞতার অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি শিক্ষার্থী প্রকৃতপক্ষে এত টাকা দেয়। তবুও, ছয় অঙ্কের খরচ অতিক্রম করা একটি প্রতীকী মাইলফলক। কলেজ ডিগ্রির মূল্য নিয়ে যখন প্রশ্ন উঠছে, তখন এই বাড়তি খরচ আরও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। তবে ডরম সাজাতে হাজার হাজার ডলার খরচ করা পরিবারগুলোর সঙ্গে যারা এক লক্ষ ডলার দিয়ে কলেজে পড়েন তাদের সবাই এক নন। কলেজ ভর্তি নির্দেশিকা ‘সাউন্ডবাইট’-এর লেখক সারা হার্বারসন বলছেন, দক্ষিণের বড় পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোতে এই ডিজাইনার ডরম প্রবণতা বিশেষভাবে দেখা যায়, যেখানে বহির্বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্যও খরচ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক কম। ফলে টিউশন পরিশোধের পর পরিবারগুলোর হাতে নমনীয় খরচের জায়গা থাকে।

“তারপরই আসে ‘মজার অংশ’, শিক্ষার্থীদের চোখে,” ফরচুনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন হার্বারসন, যিনি অ্যাপ্লিকেশন নেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। “অনেক পরিবার ডরম ডেকোরেশনকে প্রয়োজনীয় খরচ হিসেবে দেখে। তবে একটি ঘরকে পাঁচতারা হোটেলের মতো দেখানোর প্রকৃত খরচের দুদিকেই বড় ধরনের তারতম্য থাকে। এতে পরিবারগুলো তাদের ইচ্ছামতো খরচ করতে পারে।” মেধা বৃত্তি এই পার্থক্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, বলেন হার্বারসন। দক্ষিণের বড় পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলো যথেষ্ট মেধা বৃত্তি দিতে পারে, কিন্তু কিছু অভিজাত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে তা পাওয়া অনেক কঠিন। ফলে কিছু পরিবারের জন্য কম খরচের স্কুল বেছে নেওয়ার অর্থ হলো ডরম সাজানো বা সঞ্চয়—যেকোনো কাজে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ তৈরি করা। “শেষ পর্যন্ত, কলেজের ক্ষেত্রে পরিবারগুলো কোথায় এবং কীভাবে তাদের অর্থ ব্যয় করবে তা স্পষ্ট করে দিচ্ছে,” বলেন হার্বারসন।