প্রতিদিন সকালে বাথরুমে থাকা টুথব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজা আমাদের সবার অভ্যাস। টয়লেটের পাশে টুথব্রাশ রাখার কথা ভাবলে অনেকেরই অস্বস্তি লাগে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক বাথরুমে রাখা টুথব্রাশে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি খুঁজে পান। তখন এই খবর সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে ভয় পেয়ে যান। তবে আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, টুথব্রাশে থাকা সামান্য ব্যাকটেরিয়ার কারণে মানুষ অসুস্থ হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। অর্থাৎ, ভয়ের চেয়ে বাস্তবতা অনেক কম ভয়াবহ।

ফ্লাশ করার সময় টয়লেট থেকে সূক্ষ্ম পানির কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, যা ‘টয়লেট প্লুম’ নামে পরিচিত। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা লেজার লাইট দিয়ে এই প্লুম নিয়ে পরীক্ষা চালান। পরীক্ষায় দেখা যায়, ফ্লাশের সঙ্গে সঙ্গে পানির অদৃশ্য কণাগুলো প্রায় ১.৫ মিটার উঁচু পর্যন্ত বাতাসে ভেসে ওঠে। টুথব্রাশ যদি টয়লেটের খুব কাছে থাকে, তবে সেই কণাগুলো ব্রাশে গিয়ে পড়তে পারে।

জীবাণু আটকানোর উপায় নিয়ে অনেকেই ভাবেন, ফ্লাশের আগে টয়লেটের ঢাকনা বন্ধ করলেই জীবাণু ছড়ানো বন্ধ হবে। কিন্তু ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকনা খোলা থাকুক বা বন্ধ, জীবাণু ছড়ানোর হার প্রায় একই। তাই ঢাকনা বন্ধ করার বদলে নিয়মিত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ক্লিনার ও ব্রাশ দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার রাখা বেশি কার্যকর।

টুথব্রাশ ঢেকে রাখাও সমাধান নয়। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, টুথব্রাশ বন্ধ পাত্রে ঢেকে রাখলে সেটি ভেজা থাকে, আর স্যাঁতসেঁতে জায়গায় ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। তাই টুথব্রাশ সবসময় খোলা বাতাসে শুকানোর সুযোগ দেওয়া উচিত।

শুনতে যতই খারাপ লাগুক, টুথব্রাশের জীবাণু নিয়ে আসলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কোনো গবেষণায়ই টুথব্রাশের ব্যাকটেরিয়া থেকে বড় অসুখ হওয়ার প্রমাণ মেলেনি। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন স্পষ্ট জানিয়েছে, টুথব্রাশে ব্যাকটেরিয়া থাকলেও তা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না। চাইলে মাউথওয়াশ দিয়ে টুথব্রাশ পরিষ্কার করা যেতে পারে, তবে বিশেষ প্রয়োজন নেই।

২০২১ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, টুথব্রাশ কোথায় রাখা হচ্ছে বা টয়লেটের ঢাকনা বন্ধ আছে কি না, এসবের ওপর টুথব্রাশের জীবাণুর ধরন নির্ভর করে না। গবেষক এরিকা হার্টম্যান জানান, টুথব্রাশে থাকা বেশিরভাগ জীবাণু আসে মানুষের মুখ ও ত্বক থেকে, টয়লেট থেকে নয়। টয়লেটের অন্ত্র থেকে আসা জীবাণুর পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই বাথরুমের টুথব্রাশ নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করার দরকার নেই। নিয়মিত দিনে দুবার দাঁত মাজার পর ব্রাশটি খোলা বাতাসে ভালোভাবে শুকিয়ে রাখাই যথেষ্ট।