ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় কিছু ঘটনা থাকে যা বিস্ময় জাগায়। এমনই এক বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছিল জিম্বাবুয়ে, যখন ১৯৯৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে একই দলে তিন জোড়া ভাই একসঙ্গে মাঠে নেমেছিলেন। ক্রিকেট বিশ্বের প্রায় দেড় শতাব্দীর ইতিহাসে এর আগে বা পরে আর কখনো এমন দৃশ্য দেখা যায়নি।

হারারেতে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে দলের হয়ে ওপেনিংয়ে নেমেছিলেন গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার এবং গ্যাভিন রেনি। গ্যাভিন রেনি ২৩ রানে আউট হওয়ার পর গ্র্যান্টের সাথে জুটি বাঁধেন তাঁর আপন ভাই অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। অন্যদিকে, বল হাতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন গ্যাভিনের ভাই জন রেনি। এই দুই জোড়া ভাইয়ের পাশাপাশি ওই ম্যাচে খেলেছিলেন স্ট্র্যাং ভাইরাও। পল স্ট্র্যাং ৭ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন এবং তাঁর ভাই বাঁহাতি পেসার ব্রায়ান স্ট্র্যাংও উক্ত ম্যাচটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন। মজার বিষয় হলো, চার নম্বরে ব্যাটিং করা গাই হুইটালের চাচাতো ভাই অ্যান্ডি হুইটালও দলের ১২তম সদস্য হিসেবে সাথে ছিলেন।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কথা বলতে গেলে, ওই ম্যাচে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার। তিনি উভয় ইনিংসেই সেঞ্চুরি করে নজর কাড়েন; প্রথম ইনিংসে ১০৪ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫১ রান করেন। বিপরীতে তাঁর ভাই অ্যান্ডির ব্যাট থেকে আসেনি তেমন কোনো বড় রান, তিনি যথাক্রমে ৮ ও ২০ রান করেন। রেনি ভাইদের মধ্যে গ্যাভিন দ্বিতীয় ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করেন, তবে জন রেনি বল হাতে কোনো উইকেট না পেলেও ব্যাটিংয়ে অবদান রাখেন। পল স্ট্র্যাং প্রথম ইনিংসে ৪২ রান করেন এবং দুই ভাই মিলে ম্যাচে মোট ৮টি উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যন্ত ক্রিস কেয়ার্নসের অপরাজিত ৭১ রানের সৌজন্যে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র করে জিম্বাবুয়ে।

তবে ক্রিকেট ইতিহাসে ভাইদের একসঙ্গে খেলার ঐতিহ্য বেশ পুরনো। ১৮৭৭ সালে মেলবোর্নের প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ডেভ গ্রেগরি এবং তাঁর ভাই নেড একসঙ্গে খেলেছিলেন। পরবর্তী সময়ে গ্রেগ ও ইয়ান চ্যাপেল, স্টিভ ও মার্ক ওয়াহ কিংবা ডেভিড ও মাইক হাসি অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রভাবশালী জুটি হিসেবে পরিচিতি পান। দক্ষিণ আফ্রিকায় গ্রায়েম ও পিটার পোলক এবং পিটার ও গ্যারি কারস্টেন নামের ভাইদের কথা স্মরণীয়।

অন্যান্য দেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, পাকিস্তানের মোহাম্মদ পরিবার এবং রমিজ-ওয়াসিম রাজা জুটি বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পেয়েছেন। ভারতের লালা অমর সিং ও লালা রামজি এবং লাল অমরনাথের দুই ছেলে মহিন্দর ও সুরিন্দর দেশের হয়ে খেলেছেন। শ্রীলঙ্কায় অর্জুনা রানাতুঙ্গার ভাইদের উপস্থিতি ছিল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজে সম্প্রতি ব্রাভো ভাইদের দেখা গেছে। নিউজিল্যান্ডের রিচার্ড হ্যাডলি ও ডেল এবং মার্টিন ও জেফ ক্রোও জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। এমনকি বাংলাদেশের হয়েও খেলেছেন সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবি পরিচালক মিনহাজুল আবেদীন এবং তাঁর ভাই নুরুল আবেদীন। তবে তিন জোড়া ভাইয়ের একসাথে খেলার সেই অনন্য রেকর্ডটি আজও জিম্বাবুয়ের দখলেই রয়ে গেছে।