ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) প্রথম কোয়ালিফায়ারে এক নাটকীয় পরাজয়ের মুখে পড়ল গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। ব্রিজটাউনে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে গায়ানার ইনিংস ছিল উত্থান-পতনের। শুরুর দিকে গ্লেন ফিলিপস ও মাভেন্ড্রা ডিন্ডিয়াল ২৬ রান যোগ করে দলকে শক্ত ভিত দেওয়ার চেষ্টা করেন। জশুয়া জেমসের বলে ডিন্ডিয়াল আউট হলেও ফিলিপস ও শেই হোপের প্রচেষ্টায় ৭ ওভার শেষে মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ৪০ রান সংগ্রহ করে গায়ানা। মনে হচ্ছিল তারা বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এরপরই শুরু হয় অবিশ্বাস্য পতন।
ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন পাকিস্তানের দুই রিস্ট স্পিনার শাদাব খান এবং সুফিয়ান মকিম। তাঁদের আক্রমণের মুখে গায়ানার ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। মাত্র ২০ বল এবং ৯ রানের ব্যবধানে গায়ানা হারিয়ে ফেলে ৮টি উইকেট। সুফিয়ান মকিম আক্রমণে এসে প্রথম বলে ফিলিপসকে আউট করেন এবং ওই ওভারেই বিদায় করেন মোহাম্মাদ হারিসকে। এর পরপরই শুরু হয় শাদাব খানের তাণ্ডব। তিনি একটি হ্যাটট্রিক সম্পন্ন করেন, যার শুরু হয় শিমরন হেটমায়ারকে লং অনে ক্যাচ করিয়ে। এরপর গুগলিতে এলবিডব্লিউ হন মেহেদী হাসান মিরাজ এবং পরবর্তী বলে বোল্ড হন কুয়েন্টিন স্যামসন। ২০২৪ সালের লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে কলম্বো স্ট্রাইকার্সের হয়ে হ্যাটট্রিক করার পর এটি ছিল শাদাবের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক।
মকিমের জোড়া শিকার এবং শাদাবের চতুর্থ উইকেটে ইমরান তাহিরের পতনের ফলে গায়ানার রান দ্রুত ৪৯-এ ঠেকে ৯ উইকেট হয়ে যায়। শেষদিকে রোমারিও শেফার্ড ১৪ রান এবং শেষ জুটিতে ২৭ রান যোগ করায় গায়ানা মোট ৭৬ রানে গুটিয়ে যায়। ব্যাট হাতে প্রথম বলেই আউট হওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ বোলিংয়েও কার্যকর হতে পারেননি; ১.২ ওভারে ১০ রান দিয়ে তিনি উইকেটশূন্য থাকেন।
৭৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক থাকে। মাত্র ৫.২ ওভারে তারা জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়। ওপেনার রাকিম কর্নওয়াল ১৬ বলে ৬টি ছক্কাসহ ৪৯ রান করে আউট হন এবং এভিন লুইস ১৩ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ৯ উইকেটের এই বিশাল জয় নিয়ে তারা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ম্যাচে ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে এবং হ্যাটট্রিক করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতে নেন শাদাব খান, অন্যদিকে ১৩ রানে ৪ উইকেট নেন সুফিয়ান মকিম।




