লিওনেল মেসির দীর্ঘ পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারে গোল করার ক্ষেত্রে তাঁর বাঁ পায়ের প্রাধান্য সবসময়ই ছিল স্পষ্ট। তবে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর গোল করার ধরনে এক চমকপ্রদ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি ক্রুজ আজুলের বিপক্ষে করা গোলের মাধ্যমে মায়ামির হয়ে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মেসি, যার মধ্যে ষষ্ঠবারের মতো তিনি মাথা ব্যবহার করে গোল করেছেন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মেজর লিগ সকারের এই ক্লাবে তাঁর মোট গোলের প্রায় ৬ শতাংশ এসেছে হেডের মাধ্যমে।

পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, বার্সেলোনায় কাটানো দীর্ঘ ১৭ বছরে সব মিলিয়ে ৬৭২টি গোল করেছিলেন মেসি। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি গোল ছিল হেডে, যা শতকরা হিসেবে প্রতি ১০০ গোলে ৩.৫৭টির মতো। বার্সেলোনার সময়ে তাঁর মোট গোলের ৮২.৮৯ শতাংশ অর্থাৎ ৫৫৭টি গোলই ছিল বাঁ পায়ের। এমনকি পিএসজিতে কাটানো দুই মৌসুমে ৩২টি গোলের ২৮টিই তিনি বাঁ পায়ে করেছেন, সেখানে হেডে গোলের সংখ্যা ছিল শূন্য। জাতীয় দল আর্জেন্টিনার হয়ে করা ১২৫টি গোলের মধ্যে ১১১টি বাঁ পায়ের হলেও হেডে গোল ছিল মাত্র দুটি।

বার্সেলোনায় মেসির হেডে গোলের সংখ্যা কম থাকার পেছনে ছিল দলটির বিশেষ খেলার ধরন। জাভি, বুসকেতস এবং ইনিয়েস্তার সাথে ছোট পাসের মাধ্যমে বল নিয়ন্ত্রণ ও ধারাবাহিক বিল্ডআপের ওপর ভিত্তি করে আক্রমণ গড়ে উঠত বার্সেলোনা। এই পদ্ধতিতে বল বেশিরভাগ সময় মাটিতেই থাকতো এবং মেসি নিজেও রক্ষণ ভেঙে ড্রিবল করা বা সতীর্থদের সুযোগ করে দেওয়ার ভূমিকায় বেশি থাকতেন। ফলে ক্রস থেকে হেডে গোল করার সুযোগ তাঁর সামনে খুব কম আসতো।

তবে ইন্টার মায়ামিতে মেসির ভূমিকা ও খেলার ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এমএলএস-এর ট্যাকটিক্যাল বিশ্লেষক জোসেফ লরির মতে, মায়ামিতে মেসিকে ডান দিকের হাফ স্পেসে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়, ফলে তিনি ভেতরে ঢুকে আক্রমণ করা বা বাইরে থেকে খেলা—উভয় সুযোগই পান। এই স্বাধীন পজিশনিং তাঁকে প্রতিপক্ষের বক্সে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় পৌঁছাতে সাহায্য করে, যা তাকে শেষ মুহূর্তে ক্রসের অপেক্ষায় থেকে হেডে গোল করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে শারীরিক চাহিদাও বদলেছে মেসির। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে দীর্ঘ সময় বল নিয়ে দৌড়ানোর চেয়ে পজিশনিং এবং শক্তির সঠিক ব্যবহার করা তাঁর জন্য বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে। এছাড়া মায়ামির আক্রমণাত্মক কৌশলে দ্রুত বল এগিয়ে নেওয়া এবং উইং ব্যবহারের প্রবণতা বেশি, যা বার্সেলোনার সেই বিখ্যাত 'তিকিতাকা' যুগের চেয়ে ভিন্ন। সুয়ারেজ ও জর্দি আলবার মতো পরিচিত সতীর্থদের সাথে খেললেও দলের সামগ্রিক কাঠামোর এই বৈচিত্র্য মেসিকে বক্সে শেষ ফিনিশার হিসেবে মাথা ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে।