ব্রাজিলের সাবেক তারকা স্ট্রাইকার রোনালদো নাজারিওর জন্মদিন ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই একটি বিভ্রান্তি লক্ষ করা যায়। কেউ কেউ ১৮ সেপ্টেম্বর, আবার কেউ কেউ ২২ সেপ্টেম্বর—দুই দিনই তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে থাকেন। ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদ, ইন্টার মিলান, এসি মিলান ও বার্সেলোনার মতো জায়ান্ট ক্লাবে খেলেছেন তিনি। দুবার বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ব্যালন ডি’অরও জিতেছেন এই ফরোয়ার্ড। হাঁটুর চোটের কারণে ক্যারিয়ারের মাঝপথে অনেকটা থমকে গেলেও তাঁকে অনেকে সর্বকালের সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে বিবেচনা করেন।
অফিসিয়াল প্রোফাইলগুলোতে তাঁর জন্মতারিখ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বরই উল্লেখ করা আছে। রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, মিলান ক্লাব এবং পিএসভি আইন্দহফেনের ওয়েবসাইটে এই তারিখই দেওয়া। তবে ২০১৮ সালে এসি মিলান তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। একইভাবে, প্রাক্তন সতীর্থ ডেভিড বেকহাম গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। ২০১৬ সালে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে রব স্মিথ ১৭ সেপ্টেম্বর লেখা প্রকাশ করেন, যেখানে বলা হয়েছিল পরদিন রোনালদোর জন্মদিন। অন্যদিকে, ২০২২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর নিজের এক্স হ্যান্ডলে রোনালদো নিজেই লিখেছিলেন, 'আজ আমার জন্মদিন।'
এই গোলকধাঁধার শুরুটা ঘটে ১৯৭৬ সালে। রিও ডি জেনিরোর কাছের শহর বেন্তো রিবেইরোতে জন্মগ্রহণ করেন রোনালদো। তাঁর মা সোনিয়া দস সান্তোস বারাতা ও বাবা নেলিও নাজারিও দি লিমা। জন্মের চার দিন পর অর্থাৎ ২২ সেপ্টেম্বর ছেলের জন্মনিবন্ধন করেন বাবা। এর পেছনে একাধিক গল্প প্রচলিত। কারও মতে, নিবন্ধনের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় জরিমানা এড়াতে নেলিও চার দিন পরে যান। আবার ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানায়, তখন বিনা খরচে জন্মনিবন্ধন করা যেত না, তাই সেই টাকা জোগাড় করতে চার দিন লেগে যায়। কিছু সূত্র আবার বলছে, প্রসবকালীন চিকিৎসকের নামেই রোনালদোর নামকরণ করা হয়েছে—যে ডাক্তার সোনিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং চিকিৎসা করান, তাঁর নাম রোনালদো ভালেন্তে।
ছোটবেলায় রোনালদো 'দাদাদো' নামে পরিচিত ছিলেন। ১১ বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন তিনি। রিও শহরের সোশ্যাল রামোস ক্লাবে ইনডোর ফুটবল খেলে প্রথম বছরেই ১৬৬ গোল করেন। এরপর শৈশবের আদর্শ জিকোর পদাঙ্ক অনুসরণ করে ফ্লামেঙ্গোয় ট্রায়াল দেন, কিন্তু যাতায়াত খরচের অভাবে ক্লাবটিতে যোগ দিতে পারেননি। পরে সাও ক্রিস্তোভাও ক্লাবে খেলার সুযোগ পান, যেখানে কোচ ছিলেন ব্রাজিলের সাবেক তারকা জর্জিনিও। জর্জিনিওই তাঁকে ক্রুজেইরোতে পাঠান। ১৯৯৩ সালে ক্রুজেইরোর হয়ে অভিষেক হয় তাঁর।
১৯৯৬ আটলান্টা অলিম্পিকে ব্রাজিল দলে ১৮ নম্বর জার্সি পরেছিলেন রোনালদো। সেই আসরেই তাঁর নামের সঙ্গে আরেকটি মজার কাহিনি জড়িয়ে আছে। ব্রাজিল দলে তখন আরও একজন রোনালদো ছিলেন—রোনালদো রদ্রিগেজ দে জেসুস নামের এক ডিফেন্ডার। নতুন রোনালদো যোগ দেওয়ায় তাঁকে 'রোনালদিনিও' (ছোট রোনালদো) বলা শুরু হয়। পরবর্তীকালে সেই নামটিই স্থায়ী হয়ে যায়। ক্লাব ক্যারিয়ারে পিএসভি, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ, এসি মিলান ঘুরে করিন্থিয়ান্সে অবসর নেন রোনালদো। জাতীয় দলে ৯৮ ম্যাচে ৬২ গোল করেছেন তিনি।




