টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছালেন ইংল্যান্ডের তারকা ব্যাটার জস বাটলার। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচেই একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন তিনি। সব ধরনের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ মিলিয়ে ১৫ হাজার রানের ক্লাবে প্রবেশ করা প্রথম ক্রিকেটার হলেন বাটলার।

কার্ডিফে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ২৯ রানে অপরাজিত থাকা অবস্থায় পঞ্চম ওভারে ঈশান মালিঙ্গার বলে একটি রান নিতেই পূর্ণ হয় তাঁর ১৫ হাজার রানের প্রাপ্তি। এই একটি রানের মাধ্যমেই তিনি কাইরন পোলার্ডকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের সিংহাসনে বসেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পোলার্ডের মোট রান ছিল ১৪,৯৯৯, আর বাটলার স্পর্শ করলেন ঠিক ১৫,০০০ রানের ঘর। তবে রেকর্ড গড়ার পর খুব দ্রুতই তিনি ৩০ রানে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন।

বাটলারের এই রাজকীয় ফর্মের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের জয়যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। টম ব্যান্টনের ২৪ বলে অপরাজিত ৫২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করে ৪৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটে জয় পায় ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে ১১৯ রানের বিশাল জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ী হয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বাধীন দল। আগামীকালের শেষ ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার সাথে।

বাটলারের এই অভাবনীয় সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তিনি বাটলারের ১৫ বছরের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সকে 'অবিশ্বাস্য' হিসেবে অভিহিত করেন এবং ড্রেসিংরুমে তাঁর উপস্থিতিকে দলের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান বলে উল্লেখ করেন।

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাটলার ৪৯৭টি ইনিংসে এই ১৫ হাজার রান সংগ্রহ করেছেন। এর বিপরীতে কাইরন পোলার্ড ৬৭১টি ইনিংস খেলে তাঁর চেয়ে মাত্র ১ রান কম সংগ্রহ করেছেন। এছাড়া সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন হেলস (৫৩১ ইনিংসে ১৪,৫৮১ রান) এবং চতুর্থ স্থানে আছেন ক্রিস গেইল (৪৫৫ ইনিংসে ১৪,৫৬২ রান)। স্ট্রাইক রেটের দিক থেকে কেবল পোলার্ড (১৫০.৯২) বাটলারের (১৪৭.৪৬) চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন।

২০০৯ সালের অক্টোবরে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হওয়া বাটলার ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত ওপেনিং শুরু করেন। যদিও তিনি বিভিন্ন পজিশনে ব্যাটিং করেছেন, তবে ওপেনার হিসেবেই তিনি সবচেয়ে বেশি সফল। ২২৭টি ইনিংসে ওপেনার হিসেবে তাঁর সংগ্রহ ৮,১৪২ রান, যার গড় ৩৯.৭১।

অন্যদিকে, ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের সামনে তেমন প্রতিরোধ গড়তে পারেনি শ্রীলঙ্কা। সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন পাতুম নিশাঙ্কার। বোলিংয়ে লিয়াম ডসন ৩২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।