রান্নাঘরের অতি পরিচিত উপকরণ টমেটো শুধু খাবারের স্বাদ ও রং বাড়ায় না, বরং মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী হতে পারে বলে নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে। স্পেনের গবেষকেরা দেখেছেন, নিয়মিত টমেটো পেস্ট গ্রহণের সঙ্গে মনোযোগ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কিছু উন্নতি ঘটতে পারে। এই ফলটি পাস্তা, পিৎজা, স্যুপ কিংবা ঘরোয়া নানা পদে ব্যবহৃত হলেও এর গুণাগুণ নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞানের কৌতূহল এখন অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ইউরোপে টমেটো একসময় 'সোনালি আপেল' নামে পরিচিত ছিল। ইতালীয় উদ্ভিদবিদেরা এর হলুদাভ জাতকে 'পোমি দ’ওরো' বা 'সোনালি আপেল' বলতেন। পরবর্তী সময়ে এটি 'লাভ অ্যাপল' বা 'প্রেমের আপেল' নামেও জনপ্রিয় হয়। গ্রিক পুরাণে সোনালি আপেলের যে গল্প আছে—দেবী এরিসের ছোড়া সেই আপেলকে ঘিরে হেরা, অ্যাথেনা ও অ্যাফ্রোদিতির বিবাদ এবং শেষ পর্যন্ত প্যারিসের রায়—তা অবশ্য রান্নাঘরের টমেটোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। তবে নামকরণের এই কৌতূহলী ইতিহাস দেখায়, ইউরোপে টমেটো প্রথম দিকে সন্দেহের চোখে দেখা হতো। কালক্রমে সেই সন্দেহ কাটিয়ে টমেটো বিশ্বের অসংখ্য রন্ধনশৈলীর অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।
ভয়, কৌতূহল আর প্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠা এই ফলটি এখন বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে—নিয়মিত টমেটো খেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় কি কোনো পরিবর্তন আসতে পারে? ২০২৬ সালে Antioxidants জার্নালে প্রকাশিত একটি ছোট আকারের ক্লিনিক্যাল গবেষণায় এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন স্পেনের গবেষকেরা। গবেষণায় ৪৭ জন সুস্থ ৪০ থেকে ৫৫ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ৪২ জন পুরো গবেষণাটি সম্পন্ন করেন। অংশগ্রহণকারীদের দুই দফায় তিন মাস করে ভিন্ন খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করতে বলা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, টমেটো পেস্ট গ্রহণের সঙ্গে মনোযোগ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণের কিছু উন্নতির সম্পর্ক রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টমেটোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান, বিশেষ করে লাইকোপিন, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই গবেষণাটি ছোট পরিসরে হওয়ায় এর ফলাফলকে চূড়ান্ত বলে মনে করা ঠিক হবে না। গবেষণাটি ইউনিভার্সিটি অফ বার্সেলোনার সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে বলে সূত্রে জানা যায়। টমেটোর এই সম্ভাব্য মস্তিষ্ক-বান্ধব গুণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ভবিষ্যতে বড় পরিসরের গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।




