টাঙ্গাইল শহর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বকুলতলা মোড়। এই জায়গার পরিচিতি এখন আর কেবল বকুলতলাতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং স্থানীয় ও দূরদূরান্তের মানুষের কাছে এটি এখন 'শিঙাড়ার মোড়' হিসেবে পরিচিত। এই নামকরণের পেছনে মূল কারিগর মতিউর রহমান, যার দোকানের শিঙাড়ার স্বাদে মুগ্ধ হয়ে এখানে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। টাঙ্গাইল-আরিচা সড়কের পাশেই এই দোকানটি অবস্থিত, যেখানে দুপুর গড়াতেই একের পর এক যানবাহন থামতে শুরু করে। যাত্রীরা নেমে ভিড় করেন মতিউরের দোকানে এবং যার যার প্রয়োজনমতো শিঙাড়া কিনে পুনরায় গন্তব্যের দিকে রওনা হন।
এই ব্যবসার শুরুটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। মতিউর রহমান জানান, তাঁর বাবা আগে সেখানে একটি ছোট মনিহারির দোকান চালাতেন। ২৫ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর তিনি সেই দোকানটি সামলানো শুরু করেন। তবে কয়েক বছর পর মনিহারির পাশাপাশি তিনি চা, পুরি, পেঁয়াজু এবং শিঙাড়া বিক্রি শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে তাঁর তৈরি শিঙাড়ার সুনাম আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে থাকে এবং এর চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এই বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখে তিনি অন্যান্য সব খাবার বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে শুধুমাত্র শিঙাড়া বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।
বর্তমানে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজারটি শিঙাড়া বিক্রি হয় এই দোকানে। প্রতিটি শিঙাড়ার মূল্য ১০ টাকা। এই ব্যবসার আয়েই তাঁর আট সদস্যের সংসার চলে। শিঙাড়া তৈরির প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ পারিবারিক। সকাল থেকে বাড়িতে আলু কাটা এবং রান্না করার কাজ শুরু হয়, যেখানে মতিউর রহমানকে সহায়তা করেন তাঁর স্ত্রী। দুপুরের পর তাঁর দুই ছেলে, নীরব হাসান ও রিফাদ হাসান দোকানের কাজে যোগ দেয়। দুপুর থেকে শুরু করে রাত ৮টা বা ৯টা পর্যন্ত চলে এই শিঙাড়া তৈরি ও বিক্রির ব্যস্ততা।
ক্রেতাদের মতে, এই শিঙাড়ার স্বাদ অন্যদের চেয়ে আলাদা। টাঙ্গাইল শহরের কচুয়াডাঙ্গা থেকে আসা আনোয়ার হোসেন এবং নাগরপুরের ঘুনিসিংজোড়া গ্রামের সোহান হোসেন জানান, এই বিশেষ স্বাদের টানেই তাঁরা এখানে আসেন এবং পরিবারের জন্য শিঙাড়া কিনে নিয়ে যান। স্থানীয় ব্যবসায়ী জোসন আলীও জানান, শহর থেকে আসা মানুষ এবং পথচলতি যাত্রীরা এখানে গাড়ি থামিয়ে শিঙাড়া কেনেন বলে বকুলতলা মোড় এখন 'শিঙাড়ার মোড়' নামে পরিচিতি পেয়েছে।
নিজের শিঙাড়ার জনপ্রিয়তার রহস্য সম্পর্কে মতিউর রহমান বলেন, তিনি দুই-এক দিন পরপরই ভাজার তেল পরিবর্তন করেন এবং পরিবারের সবাই অত্যন্ত যত্ন সহকারে এটি তৈরি করেন। এই পরিচ্ছন্নতা ও যত্নের কারণেই স্বাদটি ভিন্ন হয় বলে তিনি মনে করেন। পাশাপাশি একে তিনি আল্লাহর রহমত হিসেবে গণ্য করেন।




