প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফুসফুস দিবস। ২৫ সেপ্টেম্বর এই বিশেষ দিনে এ বছরের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জীবনব্যাপী ফুসফুসের স্বাস্থ্য’। সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য ফুসফুসের সুস্থতা অপরিহার্য। এই উপলক্ষ্যে ফুসফুসের ঝুঁকি ও সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক짚িয়েছেন বাংলাদেশ ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড স্লিপ সোসাইটির (বিপস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. জাকির হোসেন সরকার।
সাধারণত ধূমপানকে ফুসফুসের প্রধান শত্রু মনে করা হলেও, ডা. জাকির জানান যে আরও অনেক কারণ রয়েছে যা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এর মধ্যে বায়ুদূষণ, বংশগত প্রভাব, কর্মক্ষেত্রে থাকা বিভিন্ন ঝুঁকি এবং বারবার ইনফেকশনে আক্রান্ত হওয়া অন্যতম। বিশেষ করে পরোক্ষ ধূমপানের বিষয়টি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ধূমপায়ীর ধোঁয়া যখন একজন অধূমপায়ী ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে গ্রহণ করেন, তখন তা প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতোই ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং ফুসফুসসহ অন্যান্য অঙ্গে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়। এছাড়া এটি দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগ, হাঁপানি ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আরও ভয়াবহ, কারণ এর ফলে নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস এবং কানের সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
বায়ুদূষণের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি জানান, দূষিত বাতাস নতুন করে হাঁপানি সৃষ্টি করার পাশাপাশি বিদ্যমান হাঁপানির আক্রমণকে আরও তীব্র করে তোলে। দীর্ঘকাল ধরে বায়ুদূষণের সংস্পর্শে থাকলে সিওপিডি (Chronic Obstructive Pulmonary Disease) হতে পারে, যার ফলে রোগীর দীর্ঘস্থায়ী কাশি ও তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এছাড়া বাতাসে থাকা কার্সিনোজেন উপাদান ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, ফলে নিউমোনিয়া বা ব্রংকাইটিসের মতো সংক্রমণ দ্রুত আক্রমণ করে।
যাঁরা নির্মাণকাজে নিযুক্ত বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো পেশায় নিয়োজিত এবং প্রতিনিয়ত ধুলাবালির মধ্যে কাজ করেন, তাঁদের জন্য বিশেষ সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। ফুসফুস সুরক্ষিত রাখতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ধুলা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সঠিক মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি। এক্ষেত্রে এন-৯৫ (N-95), কেএন-৯৫ (KN-95) বা কেএফ-৯৪ (KF-94) মাস্ক সবচেয়ে কার্যকর, কারণ এগুলো শূন্য দশমিক মাইক্রনের অতি ক্ষুদ্র কণা ফুসফুসে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এছাড়া দূষিত পরিবেশে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেয়ে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া বেশি নিরাপদ, কারণ নাকের ছাঁকনি বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে এবং এর তাপমাত্রা সহনীয় করে তোলে।
ফুসফুস ভালো রাখার জন্য সবার জন্যই শ্বাসের ব্যায়াম অত্যন্ত জরুরি, যদিও রোগীদের ক্ষেত্রে এর উপকারিতা বেশি। ডা. জাকির পরামর্শ দেন যে, পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা, পরিমিত পুষ্টিকর খাবার এবং ঘরের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে ফুসফুস সুস্থ থাকে। সবশেষে, কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কাশির সাথে রক্ত আসা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, জ্বর এবং অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস হলে তা ফুসফুসের গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, তাই এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।




