প্রাকৃতিক উৎস এবং গোলাপি রঙের আকর্ষণে বর্তমানে অনেকেই সাধারণ লবণের পরিবর্তে হিমালয়ান পিংক সল্ট ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। অনেকে মনে করেন এই লবণ স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বেশি উপকারী। তবে বৈজ্ঞানিক তথ্যের আলোকে দেখা যাচ্ছে, এই লবণ নিয়ে প্রচলিত অনেক দাবিই প্রমাণিত নয়।
মূলত পাকিস্তানের পাঞ্জাবের সল্ট রেঞ্জ এবং খেওড়া লবণখনি থেকে এই বিশেষ লবণ সংগ্রহ করা হয়। ধারণা করা হয়, লক্ষ লক্ষ বছর আগে প্রাচীন জলাধারের পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে এই লবণের স্তর তৈরি হয়েছে। এই লবণের বিশেষত্ব হলো এটি হাতে সংগ্রহ করা হয় এবং এতে প্রক্রিয়াজাতকরণ খুবই কম, ফলে বাড়তি কোনো উপাদান এখানে যোগ করা হয় না। লবণের এই অনন্য গোলাপি রঙের মূল কারণ হলো এতে থাকা আয়রন।
উপাদানের দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সাধারণ লবণের মতোই পিংক সল্টের প্রধান উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড। তবে প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এতে প্রায় ৮৪ ধরনের খনিজ ও অন্যান্য উপাদান থাকতে পারে। যদিও এই খনিজগুলোর উপস্থিতি স্বীকার করা হয়, কিন্তু সেগুলোর পরিমাণ এতই সামান্য যে মানবদেহে বড় কোনো প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে না।
পিংক সল্টের উপকারিতা নিয়ে অনেক সময় দাবি করা হয় যে, এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, ঘুমের মান উন্নত করে, শরীরের পিএইচের (pH) ভারসাম্য বজায় রাখে, বার্ধক্যের ছাপ কমায়, যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি করে এবং শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা দূর করে। তবে গবেষকদের মতে, এসব দাবির অধিকাংশেরই কোনো শক্ত গবেষণামূলক ভিত্তি নেই।
ঘুমের বিষয়ে একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, খাবারে লবণের পরিমাণ খুব কম হলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এর মানে হলো, ভালো ঘুমের জন্য শরীরে সোডিয়ামের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে এই উপকারটি যেকোনো লবণের সোডিয়াম থেকেই পাওয়া সম্ভব, শুধুমাত্র পিংক সল্টের বিশেষ কোনো গুণ নয়। একইভাবে, শরীরের পিএইচ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ফুসফুস এবং কিডনির রয়েছে, যেখানে পিংক সল্টে থাকা খনিজগুলোর ভূমিকা নগণ্য।
পরিশেষে, সাধারণ লবণ এবং হিমালয়ান পিংক সল্টের স্বাস্থ্যগত প্রভাবের তুলনামূলক কোনো বড় গবেষণা এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়নি। তাই একটিকে অন্যটির চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর বা উপকারী বলার মতো যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।




