সিলেটের তরুণ প্রজন্মের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে একটি বিশেষ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার দুপুরে নগরীর কুশিয়ারা কনভেনশন হলে আয়োজিত সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান। অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন যে, খুব শীঘ্রই—সম্ভবত আগামী এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে—তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রীকে সিলেটে নিয়ে আসবেন। আইসিটি মন্ত্রীর সাথে এই বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়ে গেছে এবং যৌথ প্রচেষ্টায় এখানে একটি এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী মনে করেন, বর্তমান সময়ে দেশে অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ উপার্জন করছেন। সিলেটের তরুণদেরও যথাযথ প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয় সুযোগ তৈরি করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি যদি পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়, তবে স্থানীয় অনেক তরুণ এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের সুযোগ পাবেন। দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারলে তারা কেবল দেশের ভেতরেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করার সক্ষমতা অর্জন করবেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, বাংলাদেশের অনেক ফ্রিল্যান্সার বর্তমানে প্রতি মাসে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ডলার আয় করছেন, যা সিলেটের তরুণদের জন্যও সম্ভব হতে পারে যদি তারা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে।

সিলেটের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, শুধুমাত্র একটি খাতের উন্নতির মাধ্যমে আঞ্চলিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরি। তিনি জানান, বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ এবং রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।