স্মার্টফোনের মেমোরি বা স্টোরেজ পূর্ণ হয়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। সাধারণত মানুষ অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলা বা পুরনো ছবি-ভিডিও ডিলিট করার কথা ভাবে। তবে এই প্রাথমিক পদক্ষেপগুলোর পরেও যদি আইফোনে যথেষ্ট জায়গা না মেলে, তবে কিছু অপ্রচলিত কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।

প্রথমেই ফোনের 'সেটিংস' থেকে 'জেনারেল' এবং এরপর 'আইফোন স্টোরেজ' অপশনে গেলে একটি বিস্তারিত তালিকা পাওয়া যায়। এখানে দেখা যায় কোন অ্যাপটি সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করে আছে। তালিকার উপরের দিকে থাকা অপ্রয়োজনীয় স্ট্রিমিং অ্যাপ বা লুকানো ফাইলগুলো এখান থেকে মুছে ফেলা সম্ভব।

মেসেজিং অ্যাপের ফাইলগুলো অনেক সময় ডিভাইসের বড় অংশ দখল করে রাখে। গ্যালারি থেকে ছবি মুছে ফেললেও হোয়াটসঅ্যাপ বা আইমেসেজ-এর মতো অ্যাপের ভেতরে সেই ফাইলগুলো থেকে যেতে পারে। আইফোন স্টোরেজ সেকশনে গিয়ে মেসেজেস অ্যাপের 'ডকুমেন্ট' ফোল্ডার যাচাই করে বড় ফাইলগুলো ডিলিট করা উচিত। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে 'ইউ' অপশন থেকে 'স্টোরেজ অ্যান্ড ডেটা' এবং তারপর 'ম্যানেজ স্টোরেজ'-এ গিয়ে চ্যাটভিত্তিক বড় ফাইলগুলো মুছে ফেলা যায়। তবে ডিলিট করার আগে গুগল ফটোস বা কম্পিউটারে ব্যাকআপ আছে কি না তা নিশ্চিত করা জরুরি। এছাড়া ভবিষ্যতের জন্য 'অটো-সেভ' অপশনটি বন্ধ রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

অনেকেই ভুলে যান যে আইফোনে ডিলিট করা ফাইলগুলো সঙ্গে সঙ্গে মুছে যায় না, বরং 'রিসেন্টলি ডিলিটেড' ফোল্ডারে জমা থাকে। ফটোস অ্যাপের 'কালেকশনস' থেকে 'ইউটিলিটি' অপশনে গিয়ে এই ফোল্ডারটি খালি করলে তাৎক্ষণিকভাবে জায়গা তৈরি হয়। একই ব্যবস্থা ফাইলস অ্যাপের 'ব্রাউজ' সেকশনেও দেখা যায়, যেখানে বড় পিডিএফ বা গেম ফাইল থেকে যেতে পারে। এছাড়া থার্ড-পার্টি ফাইল ম্যানেজার ব্যবহার করেও অদরকারি ফাইল খোঁজা যেতে পারে।

অ্যাপের ভেতরে ডাউনলোড করা ডেটাও স্টোরেজ সংকটের বড় কারণ। স্পটিফাইয়ের গান, ইউটিউবের অফলাইন ভিডিও বা পডকাস্টের পর্বগুলো প্রচুর জায়গা নেয়। পডকাস্টের ক্ষেত্রে 'রিমুভ প্লেইড ডাউনলোড' অপশনটি চালু রাখলে শোনা শেষ হওয়া ফাইলগুলো নিজে থেকেই মুছে যাবে। স্পটিফাইতে 'মিডিয়া কোয়ালিটি' কমিয়ে দিলে ডাউনলোড করা গানগুলো কম জায়গা দখল করবে।

আরও কিছু ছোট কৌশলে স্টোরেজ সাশ্রয় করা যায়। ফটোস সেটিংসে গিয়ে 'ডাউনলোড অ্যান্ড কিপ অরিজিনালস'-এর বদলে 'অপ্টিমাইজ আইফোন স্টোরেজ' নির্বাচন করলে মূল ছবি ক্লাউডে থাকবে এবং ফোনে কম রেজুলিউশনের সংস্করণ জমা হবে। এছাড়া অ্যাপের ক্যাশ মেমোরি পরিষ্কার করা যেতে পারে। উল্লেখ্য, 'অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স' ব্যবহার বন্ধ করার পরেও এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে প্রায় ৭ গিগাবাইট জায়গা দখল করে রাখতে পারে, যা সেটিংসের 'আইওএস' সেকশনে দেখা যায়।