প্রযুক্তির দুনিয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে মাইক্রোসফট তাদের ডেডিকেটেড এআই অ্যাপ 'কোপাইলট'-এর আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন এই আপডেটে যুক্ত হতে যাচ্ছে একটি উন্নত ট্যাবভিত্তিক ইন্টারফেস এবং মাইক্রোসফট অফিস অ্যাপগুলোর সাথে সরাসরি ইন্টিগ্রেশন ব্যবস্থা। প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এআই ফিচার চাপিয়ে দেওয়ার কৌশলের পরিবর্তে মাইক্রোসফট এখন তাদের স্বতন্ত্র কোপাইলট অ্যাপটিকে আরও কার্যকর করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো সাধারণ ব্যবহারকারী এবং বিশেষ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের গতি বৃদ্ধি করা। যদিও সাধারণ ভোক্তাদের মাঝে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে, তবে ডেটা প্রসেসিং, রিপোর্ট প্রস্তুত এবং প্রেজেন্টেশন তৈরির প্রয়োজনীয়তার কারণে ব্যবসায়িক খাতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
নতুন এই ইন্টারফেসে প্রধানত তিনটি ট্যাব থাকবে। প্রথমটি হলো 'হোম' ট্যাব, যা সাধারণ এআই চ্যাট এবং দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। মাইক্রোসফটের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই ট্যাবটি ব্যবহারকারীর অনুরোধের ধরন বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সঠিক মোড নির্বাচন করবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সাধারণ প্রশ্নের উত্তর চ্যাট মোডেই দেওয়া হবে, তবে জটিল কোনো কাজের ক্ষেত্রে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ কোপাইলট মোড সক্রিয় করবে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ সংযোজন হলো 'কোড' ট্যাব। এর মাধ্যমে কোনো প্রোগ্রামিং জ্ঞান বা কোডিং দক্ষতা ছাড়াই ব্যবহারকারীরা কেবল সাধারণ ভাষায় লিখে ছোটখাটো অ্যাপ, ট্র্যাকার, ড্যাশবোর্ড বা অটোমেশন ওয়ার্কফ্লো তৈরি করে নিতে পারবেন। মাইক্রোসফটের 'এআই অ্যাট ওয়ার্ক' খাতের চিফ মার্কেটিং অফিসার জ্যারেড স্পাটারো জানান, ব্যবহারকারী কেবল তার প্রয়োজনীয় অ্যাপ বা ড্যাশবোর্ডের বর্ণনা লিখে দেবেন এবং কোপাইলট নিজেই উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নিয়ে তা বাস্তবায়ন করবে। এটি সাধারণ ডেস্কটপ উইজেট থেকে শুরু করে জটিল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরির সক্ষমতা রাখে।
এছাড়া যুক্ত হচ্ছে 'অটোপাইলট' ট্যাব, যা এআই এজেন্টের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় কাজ সম্পন্ন করবে। এটি নিয়মিত ইমেইল থ্রেডের উত্তর দেওয়া থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ সরবরাহকারী পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার মতো জটিল কাজ একা সামলাতে পারবে। জ্যারেড স্পাটারোর মতে, এই ফিচারের মাধ্যমে শিডিউল তৈরি, মিটিং আয়োজন, ফলো-আপ করা এবং পার্টনারদের সাথে যোগাযোগ রাখার মতো রুটিনমাফিক কাজগুলো কোপাইলট নিজেই পরিচালনা করবে।




