আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসের নিয়ম ভঙ্গ, ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান বিটোপিয়ার বিরুদ্ধে। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে শনিবার একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। বিটোপিয়াকে এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য আগামী তিন দিনের একটি আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
‘বিটোপিয়া কেলেঙ্কারি ও বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে বেসিস জানায়, আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, এনআইডি ও পাসপোর্টের অপব্যবহার এবং কৃত্রিমভাবে অর্ডার ও রিভিউ তৈরির মতো অনিয়মের অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। বিটোপিয়া গ্রুপ মূলত 'বিডি কলিং' নামে বেসিসের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত। সংগঠনটি স্পষ্ট করে বলেছে যে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের লাখ লাখ সৎ ফ্রিল্যান্সার এবং সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের আন্তর্জাতিক সুনাম যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেসিস চার দফা পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব করেছে। প্রথমত, সদস্যপদ স্থগিতসহ কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে; গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বিএফআইইউ এবং সাইবার ক্রাইম ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেকোনো তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় নথি প্রদান করবে বেসিস। তৃতীয়ত, যেসব ফ্রিল্যান্সার বা প্রাক্তন কর্মীর ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র বা অ্যাকাউন্ট অপব্যবহার করা হয়েছে, তাদের থেকে প্রমাণ ও বক্তব্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ গোপনীয় ব্যবস্থা চালু করা হবে। চতুর্থত, এজেন্সি পরিচালনার ক্ষেত্রে তথ্যের ব্যবহার ও ডিজিটাল পরিচয়ের মালিকানা নির্ধারণে সরকারের সাথে সমন্বয় করে একটি ‘ন্যাশনাল ফ্রিল্যান্সিং অ্যান্ড মার্কটপ্লেস গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বেসিস-সহায়ক কমিটির সদস্য এবং ট্রাস্ট-আইটি (বিডি)-র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জুয়েল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে নূরুল ইসলাম, মো. আহসান হাবিব, ফেরদৌস আলম, মো. ফুয়াদ হাসান এবং মো. রাশেদ উল হক সরকার। সেখানে বলা হয়, বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে এটি স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে বাংলাদেশের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার সততার সাথে কাজ করছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত না করলেও, কোনো অন্যায় ধামাচাপা দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।
এদিকে, বিটোপিয়ার কর্মকাণ্ডের শিকার দাবি করা সাকিব মাহমুদ জানান, এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক পুরনো। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে হেনস্থার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ইতিমধ্যে বিটোপিয়ার ব্যবহৃত বেশ কিছু ভুয়া আইডির প্রমাণ প্রকাশ করেছেন এবং অনেক প্রাক্তন কর্মীর আইডি এখনো ওই প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




