শিশুদের শাসনের কথা বলে যে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি প্রদান করা হয়, তা তাদের শরীর এবং মন—উভয় ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, শাসনের নামে শিশুদের ওপর প্রয়োগ করা শারীরিক এবং মানসিক উভয় প্রকার শাস্তির ফলাফলই অত্যন্ত ক্ষতিকর।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্যানুসারে, শারীরিক শাস্তির ফলে শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। এটি শুধু শরীরেই আঘাত করে না, বরং শিশুর চিন্তাশক্তি, নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা এবং সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশ ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটেও শিশুদের প্রতি সহিংস শাসনের এই চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালের 'বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে'-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ৮৫.৭ শতাংশ গত এক মাসের মধ্যে কোনো না কোনো ধরনের সহিংস শাসনের সম্মুখীন হয়েছে। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে শারীরিক মারধর এবং মানসিক আগ্রাসন—উভয় প্রকারের শাস্তিই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এমতাবস্থায়, শিশুদের সঠিক আচরণের পাঠ দিতে গিয়ে মারধর বা মানসিকভাবে আঘাত করার পরিবর্তে সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত ও ইতিবাচক শাসন পদ্ধতি বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।