বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহনুর শারমিন। ডেঙ্গু ভাইরাস বিভিন্ন বয়সের মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে, তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি কারণ এখানে দুজন মানুষের জীবন জড়িত থাকে। গর্ভাবস্থায় একজন নারীর স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় সংক্রমণ জটিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের ফলে অনেক সময় রোগের লক্ষণগুলো সহজে ধরা পড়ে না।
চিকিৎসকের মতে, গর্ভাবস্থার কোন পর্যায়ে ডেঙ্গু হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে জটিলতা ভিন্ন হতে পারে। প্রথম তিন মাসে ডেঙ্গু হলে এর লক্ষণগুলো গর্ভাবস্থার সাধারণ লক্ষণের সঙ্গে মিলে যায়, যার ফলে রোগ নির্ণয়ে ভুল হতে পারে এবং ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে তীব্র জ্বর গর্ভপাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসে এই ভাইরাস আক্রমণ করলে প্রসবকালীন রক্তক্ষরণ বা অন্যান্য প্রসবজনিত গুরুতর জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া রক্তচাপ কমে যাওয়া কিংবা অণুচক্রিকার স্বল্পতা অকালজন্মের কারণ হতে পারে।
এই মৌসুমে কোনো অন্তঃসত্ত্বা নারী জ্বরে আক্রান্ত হলে তা সাধারণ ভাইরাসজনিত জ্বর মনে করে অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বরের প্রথম দিনেই রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ডেঙ্গুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি না পেলেও রোগের লক্ষণ দেখে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তীব্র জ্বর দেখা দিলে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ বাড়িতে যথাযথ নজরদারি করা সম্ভব হয় না। চিকিৎসায় সাধারণত প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ, স্যালাইন এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়া হয়, তবে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকা অত্যন্ত জরুরি।
সবশেষে, মা ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্ণ বিশ্রাম এবং ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। জ্বরের জন্য শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ব্যবহার করা এবং দ্রুত পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে সময়মতো সঠিক ব্যবস্থা নিলে মা ও শিশু উভয়েই নিরাপদ থাকতে পারেন।




