বাল্যবিয়ের করুণ পরিণতির এক বাস্তব উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বাসিন্দা রাশেদা বেগম। মাত্র ১২ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ৩৭ বছর আগে নেওয়া সেই ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল তাকে দিতে হয়েছে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে আলাপকালে রাশেদা বেগম জানান, অত্যন্ত অল্প বয়সে বিয়ের ফলে তাকে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি তার জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক, যার ফলে তাকে দীর্ঘ সময় তীব্র মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হয়েছে। বর্তমানে তিনি তিন সন্তানের মা—যার মধ্যে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

নিজের জীবনের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে রাশেদা বেগম সংকল্প করেছিলেন যে, তিনি তার সন্তানদের একই পরিস্থিতির মুখে ফেলবেন না। বিশেষ করে তার দুই মেয়ের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করতে তিনি বদ্ধপরিকর ছিলেন। যদিও তৎকালীন সময়ে পরিবারের সদস্য এবং আশেপাশের প্রতিবেশীরা মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিলেন, কিন্তু রাশেদা ও তার স্বামী সেই প্ররোচনায় কান দেননি।

তাদের এই দৃঢ় সিদ্ধান্তের সুফল এখন দৃশ্যমান। রাশেদার বড় মেয়ে বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত। নিজের মেয়েদের সাফল্য এবং নিজের অতীতের কষ্টের কথা স্মরণ করে রাশেদা বলেন, বাল্যবিয়ের কারণে মেয়েদের সুন্দর ভবিষ্যৎ ও জীবন ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি মনে করেন, যেন আর কোনো মেয়ের জীবনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।