শহুরে যান্ত্রিকতার ভিড়ে ঢাকার ভেতরে গ্রামীণ হাটের পরিবেশ এখন বিরল। তবে রাজধানীর মেরাদিয়া হাট এই ধারণার এক অনন্য ব্যতিক্রম। বর্তমানে রামপুরা খাল হিসেবে পরিচিত নড়াই নদের তীরে অবস্থিত এই হাটে প্রতি বুধবার সকাল থেকেই ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

মেরাদিয়া হাটের সঠিক প্রতিষ্ঠার তারিখ নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য লিখিত দলিল না থাকলেও, স্থানীয়দের মুখে মুখে প্রচলিত তথ্যে এর দীর্ঘ ইতিহাস পাওয়া যায়। হাটের নিয়মিত ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদের অনেকেরই দাবি, তাদের পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই এই হাটে লেনদেন চলে আসছে। কেউ কেউ মনে করেন, ব্রিটিশ শাসনকালে কোনো এক স্থানীয় জমিদার এই হাটের সূচনা করেছিলেন। যদিও তথ্যের ভিন্নতা রয়েছে, তবে স্থানীয় অধিকাংশ মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই হাটের বয়স প্রায় দুই শতাব্দী।

পণ্যের বৈচিত্র্যে এই হাটটি এখনো সমৃদ্ধ। এখানে হাঁস, মুরগি ও টার্কির পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, বিভিন্ন ধরনের ফল, বীজ, সার এবং গাছের চারা বিক্রি হয়। এছাড়া গ্রামীণ ঐতিহ্যের পরিচয় বহনকারী মাটির তৈরি সামগ্রী, বাঁশের তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, মাছ ধরার পলো ও খালের মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এখানে পাওয়া যায়।

হাটের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নড়াই নদীর দৃশ্য এই জায়গার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নদীর ঘাটে ভিড় করে থাকা ট্রলার এবং দূরে দৃশ্যমান একটি সরু সাঁকো যেন দর্শকদের মুহূর্তের জন্য শহরের ব্যস্ততা ভুলিয়ে গ্রামের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। মেরাদিয়া হাট বর্তমানে কেবল পণ্য কেনাবেচার একটি কেন্দ্র নয়, বরং এটি ঢাকা শহরের বুকে টিকে থাকা প্রাচীন হাট সংস্কৃতি এবং গ্রামীণ জীবনধারার এক জীবন্ত স্মারক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।