কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন এক উদ্যোগ হাতে নেওয়া হলো। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যালয়ের (বিডিআরআইএস) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকে সই করেছে ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ। এর ফলে জন্মসনদ ব্যবহার করে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা সহজেই নগদ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন পরিচালকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ এবং বিডিআরআইএসের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে গ্রাহকদের পরিচয় যাচাই করা হয় নগদে। কিন্তু ১৮ বছর বয়সের নিচে থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছে এনআইডি না থাকায় অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। এই নতুন চুক্তির আওতায় ওই বাধা কেটে গেছে—এখন তারা জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের সরকারি উপবৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা গ্রহণের জন্য জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক।

এই চুক্তির মাধ্যমে নগদ সরাসরি সরকারি জন্মনিবন্ধন তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত হলো। ফলে শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই এখন তাৎক্ষণিক, কাগজবিহীন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এতে করে উপবৃত্তি বিতরণ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নগদের প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, বিডিআরআইএসের সঙ্গে এই চুক্তির ফলে এনআইডি কার্ড না থাকা শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট খোলার দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর হলো। তবে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, ফলে মা-বাবা সন্তানের আর্থিক লেনদেনের ওপর নজর রাখতে পারবেন।

বিডিআরআইএসের রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু নছর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, নগদের সঙ্গে এই সমঝোতা জন্মনিবন্ধন সেবাকে আরও কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব করার দিক থেকে একটি বড় পদক্ষেপ। স্বয়ংক্রিয় জন্মসনদ যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হওয়ায় দ্রুত পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা সরকারি উপবৃত্তি বিতরণে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে এবং তাদের মাঝে সাশ্রয়ী অভ্যাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।