শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া গ্রামের বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী সাজু শেখ এবং তার শয্যাশায়ী স্ত্রী নুরজাহান বেগমের করুণ অবস্থার ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দম্পতিকে একমুঠো খাবারের জন্য আকুতি জানাতে দেখা যায়, যা দেশ-বিদেশের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই মানবিক সংকটের কথা জানতে পেরে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় শেরপুর জেলা প্রশাসন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই দম্পতির বাড়িতে গিয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন তাদের ছোট ছেলের হাতে একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান তুলে দেন। জেলা প্রশাসকের লক্ষ্য ছিল, এই ভ্যানের মাধ্যমে দম্পতির ছেলে আয়ের একটি স্থায়ী উৎস তৈরি করতে পারবে। একই সঙ্গে তাদের জরাজীর্ণ পুরনো ঘরটি ভেঙে নতুন করে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া দম্পতিকে নতুন পোশাকও প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাইফুল ইসলাম কমল, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক, শেরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনের পাশাপাশি এই দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। টাঙ্গাইলের ‘মানবতার সেবায় সোহেল’ নামক সংগঠনটি সর্বপ্রথম তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে এবং নগদ ১০ হাজার টাকা ও প্রায় ৪২ হাজার টাকা মূল্যের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করে। এছাড়া স্থানীয় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হযরত আলী, জেলা যুবদল এবং রক্ত সৈনিক বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনগুলোও তাদের সাহায্য করেছে।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন জানান, গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি দম্পতির চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তাদের শহরের বেসরকারি আবেদীন হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে দুই দিন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে বুধবার তারা বাড়ি ফিরেছেন। সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক বলেন, ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর পাওয়ার পর রোববার রাতেই তারা প্রাথমিক খাদ্য ও নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা শুরু করেছিলেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আবাসন সমস্যা সমাধান এবং ছেলের জন্য উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে অটোভ্যানটি উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




