পদ্মা নদীর উত্তাল স্রোতে ফেরির ইঞ্জিন বিকল হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানো কিংবা স্রোতের তোড়ে ভেসে যাওয়ার ঘটনাপ্রবাহ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের যাত্রীদের মনে গভীর ভীতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে গত ৭ সেপ্টেম্বর রো-রো ফেরি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান’-এর কয়েক কিলোমিটার ভেসে যাওয়ার পর এই নৌপথের যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রতিদিন এই রুটে শত শত যানবাহন এবং হাজার হাজার মানুষ পারাপার হলেও, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে তাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। লাইফ জ্যাকেটের অবস্থান বা পানিতে পড়ে গেলে বাঁচার উপায়— এসব মৌলিক নির্দেশনার অভাব ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।
যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ করে মাগুরা থেকে আসা গফুর মোল্লা জানান, মাঝনদীতে ফেরি দুর্ঘটনায় পড়লে কী করতে হবে, সে বিষয়ে কাউকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয় না। লাইফ জ্যাকেট কোথায় পাওয়া যাবে বা তা কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, তা জানা নেই তার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিপদে পড়লে সবার সাথে তারও একই পরিণতি হবে। একইভাবে শফিকুল ইসলাম নামের একজন যাত্রী উল্লেখ করেন, এই নৌরুটটি মোটেও নিরাপদ নয় এবং প্রায়ই ফেরির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাঝনদীতে আটকে থাকতে হয়। তিনি মনে করেন, ফেরিতে ওঠার আগেই যাত্রীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্রিফিং দেওয়া উচিত।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান’ ফেরিটি মাঝনদীতে তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে। ওই সময় ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফেরিটি আর সামনে এগোতে পারেনি এবং স্রোতের টানে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেসে যায়। এতে যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। প্রায় চার ঘণ্টা পর ফেরিটিকে উদ্ধার করে পুনরায় পাটুরিয়া ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়। ফেরি খান জাহান আলীর মাস্টার মো. নাসির উদ্দিন জানান, ওইদিন ফেরিটির হাইড্রোলিক পাইপ ফেটে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিয়মিত কারিগরি পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটি থেকেও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, উদ্ধারকাজের প্রস্তুতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, দুর্ঘটনা ঘটলে গোয়ালন্দ ফায়ার স্টেশনের দল এবং বিআইডব্লিউটিএ-এর ডুবুরিরা দ্রুত পদক্ষেপ নেন। আরিচা ও ফরিদপুরে ডুবুরি দল এবং স্পিডবোট প্রস্তুত রয়েছে, প্রয়োজনে ঢাকা থেকেও সহায়তা নেওয়া হবে। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালাহউদ্দিন দাবি করেন, তাদের প্রতিটি ফেরির বৈধ ফিটনেস ও সার্ভে সনদ রয়েছে এবং অভিজ্ঞ নাবিকরাই ফেরিগুলো পরিচালনা করেন। তিনি আরও জানান, বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ে ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি সমন্বিতভাবে কাজ করে এবং উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’সহ প্রয়োজনীয় নৌযান সবসময় প্রস্তুত রাখা হয়।




