গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ফিরে এলো ‘সম্রাট’ ও ‘নিহারকলি’ নামের দুটি হাতি। জিম্মাদারদের বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে এই উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশনায় গত সোমবার বন বিভাগের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে হাতি দুটিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। মঙ্গলবার ভোর রাত ৪টার দিকে নিহারকলি এবং সকাল ১০টায় সম্রাটকে খোলা ট্রাকে করে সাফারি পার্কে আনা হয়। পৌঁছানোর পর পরই পার্কের বন্য প্রাণী চিকিৎসক হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইনসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা হাতি দুটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন।
বন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হাতি দুটি আলাদা দুই ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। তবে জিম্মার শর্ত তারা পালন না করায় বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে এলে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থেকে নিহারকলিকে এবং জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে সম্রাট বাহাদুরকে উদ্ধার করা হয়। হস্তান্তরের সময় জিম্মাদারদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল, যেখানে উল্লেখ ছিল হাতিদের কোনো প্রকার নির্যাতন বা কষ্ট দেওয়া যাবে না এবং তাদের দিয়ে চাঁদাবাজি করানো যাবে না। কিন্তু সেই শর্তগুলোই তারা অমান্য করেছে বলে অভিযোগ।
প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, মন্ত্রী মঙ্গোলিয়ায় সিওপি-১৭ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন, তবুও তিনি এই বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছিলেন এবং তার নির্দেশনায় দ্রুত কাজ শুরু করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে চাঁদা তোলা, নির্যাতনসহ নানা অভিযোগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ও নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে হাতি দুটি উদ্ধার করে বন বিভাগ। এরপর পুনর্বাসনের লক্ষ্যে তাদের গাজীপুর সাফারি পার্কে রাখা হয়েছিল। তবে গত ৬ ও ৭ আগস্ট পার্কে পরপর দুটি হাতি মারা যাওয়ার ঘটনায় হঠাৎ করেই এই দুই হাতিকে দেখভালকারীদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে ঢাকা বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন সংরক্ষক মো. ছানাউল্যা পাটওয়ারী জানান, জিম্মাদারদের কাছ থেকে নেওয়া মুচলেকার শর্ত ভঙ্গের কারণেই হাতি দুটিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে সম্রাট হাতির দেখভালকারী মনির মিয়া বলেন, বন বিভাগের চাওয়ামাত্রই তিনি হাতি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি কোনো শর্ত লঙ্ঘন করেননি বলে দাবি করেন। হাতি দুটি ফিরিয়ে আনার পর সাফারি পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবশ্য নতুন সংকটের কথা জানিয়েছেন। পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল হোসাইন চৌধুরী জানান, পর্যাপ্ত মাহুত নেই, পুরোনো অবকাঠামো সংস্কারেরও প্রয়োজন। নতুন অবকাঠামো এত সংখ্যক হাতির জন্য যথেষ্ট নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।




