সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের শরণখলা উপজেলায় নদীর চরে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে শরণখোলার সোনাতলা গ্রামের এক জেলে ভোলা নদীর পাড়ে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় প্রথম এই পায়ের ছাপগুলো দেখতে পান। দ্রুতই এই খবর পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং আতঙ্ক কাটাতে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে গ্রামবাসীদের সতর্ক করা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখলা রেঞ্জের সহকারী বন কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে গত রাতে বাঘটি ভোলা নদী সাঁতরে লোকালয়ের এই পাড়ে এসেছিল। পায়ের ছাপ অনুসরণ করে দেখা গেছে, বাঘটি নদীর পানির ঘাট এলাকায় উঠে উত্তর দিকে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার পথ অতিক্রম করার পর পুনরায় নদী সাঁতরে সুন্দরবনের দিকে ফিরে গেছে।
সোনাতলা গ্রামের ভিটিআরটি (ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম) সদস্য আবদুল লতিফ হাওলাদার এবং দলনেতা মো. জাকারিয়া হোসাইন নিশ্চিত করেছেন যে, নদীর চরে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাঘের বিচরণের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে বাঘটি সম্পূর্ণভাবে বনে ফিরে গেছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মনে এখনো সংশয় ও উদ্বেগ রয়ে গেছে। বিশেষ করে যেখানে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে, তার খুব কাছেই বসতবাড়ি এবং বেড়িবাঁধ থাকায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী যেকোনো সময় নদী পার হয়ে লোকালয়ে আসতে পারে, তাই গ্রামবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। মানুষকে বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং বন্যপ্রাণীর ক্ষতি রোধ করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ধ্যার পর একা চলাফেরা না করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বনরক্ষী এবং ভিটিআরটি সদস্যরা ওই এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও বাসিন্দাদের সচেতন করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।




