বাংলাদেশে হামের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে হাম এবং এর সংশ্লিষ্ট উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০১ জনে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৭ জনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হামের উপসর্গকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ১০৪ জনের দেহে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজন মৃত্যুবরণ করেছেন।
আঞ্চলিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যেখানে মোট ৪৯৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরপরই অবস্থান করছে সিলেট বিভাগের, যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ১৯৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১০১ জন, রাজশাহীতে ৯৩ জন, ময়মনসিংহে ৮৪ জন, বরিশালে ৬৫ জন, খুলনায় ৫১ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোগের বিস্তার এখনো অব্যাহত রয়েছে। গত এক দিনে সারাদেশে ১ হাজার ৩০৭ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১ হাজার ১৭৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই সময়ের নমুনা পরীক্ষায় ৩৫ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৫১ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রামে ২৭৬ জন, সিলেটে ১৩২ জন, বরিশালে ১২০ জন, খুলনায় ৭৩ জন, ময়মনসিংহে ৬৯ জন, রাজশাহীতে ৪৪ জন এবং রংপুরে ১৪ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। ওই তারিখ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৫১ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে சிகிச்சை গ্রহণ করেন এবং ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ২৩ হাজার ১৫৭ জনের ক্ষেত্রে এই রোগের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, হাসপাতালে আসা সকল রোগী কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না, ফলে পরীক্ষার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই রোগের প্রকৃত বিস্তারের সঠিক চিত্র পাওয়া কঠিন।




