শারদীয় উৎসবের ভোজের আয়োজনে নিরামিষ খাবারের স্বাদ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে মেনুতে রাখা যেতে পারে ঐতিহ্যবাহী 'চাপড়ঘণ্ট'। বিভিন্ন ধরণের সবজি এবং ছোলার ডালের মুচমুচে বড়ার সংমিশ্রণে তৈরি এই পদটি গরম ভাতের সাথে খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। পারভীন আলীর সৌজন্যে এই পদের উপকরণ ও প্রস্তুত প্রণালি বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।
এই পদটি তৈরি করতে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলোর মধ্যে রয়েছে ৩০০ গ্রাম ছোলার ডাল, ৩০০ গ্রাম পটল, ৩০০ গ্রাম পেঁপে, ৪০০ গ্রাম ঝিঙে, ৩০০ গ্রাম বেগুন, ৪০০ গ্রাম মিষ্টিকুমড়া এবং ৪টি মাঝারি আকারের আলু। এছাড়া স্বাদের জন্য প্রয়োজন হবে ৫-৬টি কাঁচা মরিচ, ৪টি শুকনা মরিচ, ১ চা-চামচ পাঁচফোড়ন, ১ চা-চামচ হলুদগুঁড়া, ১ টেবিল চামচ মরিচগুঁড়া, ১ কাপ শর্ষের তেল, আধা কাপ ঘি, ১ চা-চামচ আদাবাটা, ১ চা-চামচ কাঁচা মরিচবাটা, ২টি তেজপাতা, আধা চা-চামচ চিনি এবং স্বাদ অনুযায়ী লবণ।
প্রস্তুত প্রণালির প্রথম ধাপে ছোলার ডাল পরিষ্কার করে ধুয়ে এক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ডালটি মিহি করে বেটে নিয়ে তার সাথে লবণ, মরিচগুঁড়া ও হলুদগুঁড়া মিশিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিতে হবে। এবার একটি ফ্রাইপ্যানে শর্ষের তেল গরম করে এই মিশ্রণটি দিয়ে ছোট ছোট বড়ার আকারে ভেজে তুলে আলাদা করে রাখতে হবে।
পরবর্তী ধাপে সব সবজিগুলো কিউব আকারে কেটে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এরপর অন্য একটি কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে তেজপাতা, শুকনা মরিচ ও পাঁচফোড়ন দিয়ে হালকা ভেজে নিতে হবে। প্রথমে আলু, পটল ও পেঁপে দিয়ে প্রায় দুই মিনিট ভাজুন। এরপর এতে মিষ্টিকুমড়া, বেগুন ও ঝিঙে যোগ করে আরও তিন-চার মিনিট ভাজতে হবে। সব সবজি ভাজা হয়ে এলে আদাবাটা, কাঁচা মরিচবাটা, হলুদগুঁড়া, মরিচগুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিতে হবে। এরপর ঢাকনা দিয়ে মৃদু আঁচে আরও দুই মিনিট রান্না করুন।
যখন সবজি থেকে পানি বের হবে, তখন আগে থেকে ভেজে রাখা ছোলার ডালের বড়াগুলো এতে মিশিয়ে পুনরায় ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। এক মিনিট পর ঢাকনা খুলে গরম মসলার গুঁড়া, কাঁচা মরিচ এবং সামান্য চিনি দিয়ে সব উপকরণ একসাথে ভালোভাবে মেখে নিতে হবে। সবশেষে মিশ্রণটি মাখা মাখা হয়ে এলে নামিয়ে পরিবেশন করতে হবে।




