কমলাপুর রেলস্টেশনের একটি শরবতের দোকানে কাজ করে ১০ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম। পরিবারের আর্থিক অভাব মেটাতে এবং সংসারে অর্থের জোগান দিতে গত তিন মাস ধরে এই দোকানে শ্রম দিচ্ছে সে। রবিউলের এই কাজের বিনিময়ে তাকে তিন বেলার খাবার, থাকার জায়গা এবং প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয়।
রবিউলের জীবনসংগ্রাম শুরু হয় চার বছর আগে, যখন তার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর তার মা দুই ভিন্ন বাড়িতে কাজ শুরু করেন, কিন্তু সেই আয় দিয়ে পুরো পরিবারের খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই চরম আর্থিক সংকটের মুখে পরিবারের হাল ধরতে রবিউল নিজেও কাজে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। রবিউলের পরিবারে আরও একজন ভাই এবং একজন বোন রয়েছে। তবে তার বড় ভাই বিয়ে করে আলাদাভাবে বসবাস করছেন। রবিউলের মা এবং ছোট বোন বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুরে থাকেন।
মাসের শেষে বেতন পাওয়ার পর রবিউল মোহাম্মদপুরে মায়ের কাছে যান। নিজের জন্য সামান্য কিছু টাকা রেখে বাকি সব টাকা তিনি মায়ের হাতে তুলে দেন। রবিউলের থাকার ব্যবস্থা দোকানের মালিকের মাধ্যমে করা হয়েছে, তবে সেই জায়গাটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তাকে থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে একটি পাবলিক টয়লেটের ভেতরের রিসেপশন এলাকা। সারাদিনের কঠোর পরিশ্রম শেষে সেই ছোট জায়গাতেই তাকে রাত কাটাতে হয়।




