১৯ বছরের বৈবাহিক জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে এবং নতুন কোনো অভিজ্ঞতার খোঁজে স্যান ডিয়েগোর বাসিন্দা জেফ এবং কারিনা বেসেন এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তারা 'নট আ ওয়েডিং ক্রাশার' (Not a Wedding Crasher) নামক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠানে অব্যবহৃত আসনগুলো যাচাইকৃত অতিথিদের কাছে ভাড়ায় দেওয়া হয়। গত মার্চ মাসে চালু হওয়া এই ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিবন্ধন করেছেন।
এই উদ্যোগের পেছনে একটি বাস্তব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা ছিল। জেফের মতে, আমন্ত্রিত অতিথিদের ১০ থেকে ২০ শতাংশ সাধারণত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন না। অথচ অধিকাংশ ভেন্যু বা অনুষ্ঠান কেন্দ্রের একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম অতিথি সংখ্যার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ফলে অনেক দম্পতিকে অপ্রয়োজনীয় খালি আসনের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। 'দ্য নট'-এর ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একজন অতিথির গড় খরচ প্রায় ২৯২ ডলার। এই আর্থিক ক্ষতি কমাতে দম্পতিরা এখন তাদের অব্যবহৃত আসনগুলো এই প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করছেন।
প্ল্যাটফর্মটির কার্যপদ্ধতি বেশ সুবিন্যস্ত। যেসব দম্পতি তাদের আসন ভাড়ায় দিতে চান, তারা 'হোস্ট' হিসেবে নিবন্ধন করে আসনের সংখ্যা ও মূল্য নির্ধারণ করেন। আসন প্রতি ভাড়ার হার ২৫ ডলার থেকে ১৫০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে, তবে গড়ে এটি ৫০ ডলারের আশেপাশে। উদাহরণস্বরূপ, ন্যাশভিলের বাইরে ২৫ ডলারে এবং লাস ভেগাসে আসন প্রতি ৭০ ডলারে ১৯টি আসন উপলব্ধ ছিল। ভুয়া অ্যাকাউন্ট ঠেকাতে জেফ ও কারিনা প্রতিটি তালিকা যাচাই করেন এবং দম্পতিদের সাথে যোগাযোগ করেন।
অন্যদিকে, অতিথিদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি বিনামূল্যে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে তাদের ছবি, সংক্ষিপ্ত জীবনী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিঙ্কসহ একটি প্রোফাইল তৈরি করতে হয়। এছাড়া স্ট্রাইপ (Stripe) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকারি পরিচয়পত্র এবং ফেসিয়াল স্ক্যান করে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়। দম্পতিরা আবেদনকারীর প্রোফাইল দেখে পছন্দ হলে তাকে অনুমোদন জানান। অনুমোদনের পরেই কেবল ভেন্যুর নাম ও ঠিকানা জানানো হয়। এই পরিষেবা থেকে কোম্পানিটি প্রতিটি আসনের মূল্যের ২০ শতাংশ প্ল্যাটফর্ম ফি এবং অতিথিদের কাছ থেকে সামান্য সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করে।
মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই উদ্যোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। জেফ এবং কারিনা প্রতিটি নতুন তালিকার ছোট ভিডিও তৈরি করে সংশ্লিষ্ট শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। মে মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম সফলভাবে এই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। শুরুতে মাত্র কয়েক ডজন আসন বিক্রি হলেও পাঁচ মাসের মধ্যে প্রায় ১ হাজার অতিথি প্রায় ৬০টি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। অনেকে এমনকি এই প্ল্যাটফর্মে পরিচিত হয়ে দলবেঁধে অন্য বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।
আর্থিক লাভের বাইরেও অনেক দম্পতি এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন শুধুমাত্র অনুষ্ঠানের আমেজ বাড়াতে। আটলান্টার এক দম্পতি তাদের অনুষ্ঠানে অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ আত্মীয় থাকায় তরুণ প্রজন্মের উপস্থিতি চেয়েছিলেন যাতে নাচের আসর জমে ওঠে। কারিনা জানান, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনেকে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করছেন। যেমন, একজন নারী তার প্রোফাইলে লিখেছিলেন যে তিনি বড়বেলায় 'ফ্লাওয়ার গার্ল' হতে চান, এবং এক কনে তাকে সত্যিই সেই সুযোগ করে দিয়েছেন।
নিজেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন এই দম্পতি। তারা খুব অল্প বয়সে বিয়ে করে সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, ফলে অন্যদের মতো বছরের পর বছর প্রচুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ পাননি। এমনকি তাদের নিজেদের বিয়ের সময়ও ভেন্যুর ন্যূনতম অতিথি সংখ্যার শর্তের কারণে তাদের পছন্দের দিনে অনুষ্ঠান করতে পারেননি, বরং রবিবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। সেই ব্যক্তিগত অভাব ও বাজারের শূন্যস্থান থেকেই জন্ম নিল এই নতুন ব্যবসা।




