স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কেন তারা সাফল্য পাচ্ছে না — তা নিয়ে বিস্তারিত মতামত দিয়েছেন জোকডক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রায় তিন দশক ধরে স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেছেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠান যখনই 'স্বাস্থ্যসেবায় বিপ্লব' আনার ঘোষণা দেয়, তখন তিনি মানসিকভাবে একটি ঘড়ি ধরেন — কত দিনে তারা আবিষ্কার করবে যে স্বাস্থ্যসেবা সহজে বিপ্লবের নিয়মে বশীভূত হয় না।
বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে নতুন কিছু গড়ে তোলা, দ্রুত তা সম্প্রসারণ এবং পুরনো খেলোয়াড়দের বাধ্য করা — এই কৌশল স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে স্বাস্থ্যসেবার সংস্কার অত্যন্ত জরুরি এবং যারা এ খাতে উন্নতির জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছেন, তাদের তিনি সম্মান করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে 'ধারণা সহজ, বাস্তবায়ন কঠিন' — এই সত্যটি সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য।
উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগের কথা। ২০১৮ সালে অ্যামাজন, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে এবং জেপি মরগান চেজ যৌথভাবে 'হ্যাভেন' নামে একটি উদ্যোগ চালু করেছিল, যা ১.২ মিলিয়ন কর্মীর স্বাস্থ্য সুবিধা সহজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু মাত্র তিন বছরের মাথায় ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে যায়। একইভাবে ২০১৯ সালে ওয়ালমার্ট স্বাস্থ্য ক্লিনিক চালু করেছিল, কিন্তু ২০২৪ সালে সবগুলো বন্ধ করে দেয় তারা। আইবিএম ওয়াটসন হেলথ ২০১৫ সালে ক্যান্সার চিকিৎসায় এআই ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও ২০২২ সালে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারে সেই ইউনিট বিক্রি করে দেয়। ব্রিটিশ স্টার্টআপ ব্যাবিলন হেলথ ২০২১ সালে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধনে পাবলিক হয়েছিল, কিন্তু দুই বছর পরে দেউলিয়া হয়ে যায়।
জোকডক সিইও-এর মতে, স্বাস্থ্যসেবা মূলত প্রযুক্তির সমস্যা নয়, বরং এটি একটি জটিল সিস্টেম ও প্রণোদনার সমস্যা। হাসপাতাল, চিকিৎসক, বীমা কোম্পানি, ফার্মেসি, ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড, নিয়মকানুন — সবকিছু একে অপরের সাথে জড়িত। তাই এক অংশে নতুন কিছু তৈরি করলেই পুরো ব্যবস্থা বদলে যাবে — এই ধারণা ভুল। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা একটি বাদামি মাঠ, সবুজ মাঠ নয়। এখানে সাফল্য পেতে হলে বিদ্যমান ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই কাজ করতে হবে।
জোকডক নিজে এই কৌশলই অনুসরণ করেছে বলে জানান তিনি। ২০০ হাজারের বেশি চিকিৎসক, ১০ হাজারের বেশি বীমা পরিকল্পনা এবং ১৭৫টির বেশি ক্যালেন্ডার সিস্টেমের সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে তারা। বাইরে থেকে বিপ্লব না এনে ভেতরের সবকিছুর সাথে সেতুবন্ধন তৈরি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। এই পদ্ধতি ধীর এবং কঠিন, কিন্তু বাস্তবসম্মত।
রোগীদের এখনো গড়ে ৩১ দিন অপেক্ষা করতে হয় চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে। ২০ থেকে ৩০ শতাংশ অ্যাপয়েন্টমেন্ট সময় নষ্ট হয়। রোগীরা বারবার একই কাগজপত্র পূরণ করতে বাধ্য হন। চিকিৎসকরা প্রশাসনিক কাজে অতিষ্ঠ। এই অবস্থার পরিবর্তনের জন্য তিনি 'মুনশট' প্রকল্পের বদলে বাস্তবমুখী অগ্রগতির ওপর জোর দিয়েছেন। তার ভাষায়, 'মহাকাশে উপনিবেশ গড়ার আগে পৃথিবীর রোগীদের জন্য কিছু করুন' — এই বার্তাই তিনি দিয়েছেন।




