রান্নাঘরের অতি পরিচিত দুটি উপাদান আদা ও হলুদ কেবল খাবারের স্বাদ বা রং বাড়ায় না, বরং এর রয়েছে বিশেষ স্বাস্থ্যগুণ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিভিত্তিক ‘পিসঅ্যাবল নিউট্রিশন অ্যান্ড ওয়েলনেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং যোগচর্চার প্রশিক্ষক মারিসা পেরোত্তা প্রতিদিন সকালে একটি বিশেষ পানীয় পান করার কথা বলেন। তাঁর মতে, এটি খাদ্যতালিকায় উদ্ভিজ্জ উপাদান যুক্ত করার একটি সহজ পদ্ধতি। এই পানীয়টি তৈরি করতে অ্যাপল সাইডার ভিনেগার, আদা, হলুদ, লেবু এবং লাল মরিচের গুঁড়ার সঙ্গে প্রয়োজনমতো পানি মিশিয়ে নিতে হয়। তবে পানীয়টির স্বাদ বেশ ঝাঁঝালো হওয়ায় এটি সবার কাছে পছন্দ নাও হতে পারে।

হলুদের গুণাগুণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মারিসা পেরোত্তা জানান, এতে বিদ্যমান ‘কারকিউমিন’ নামক সক্রিয় যৌগটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহবিরোধী হিসেবে কাজ করে। এটি শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতিকর অণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র হলুদ খেলেই যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে বা সংক্রমণ হবে না, তার যথেষ্ট প্রমাণ নেই। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত হলুদ বা কারকিউমিন গ্রহণ করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, আদা হজমের সমস্যা ও বমিভাব দূর করতে কার্যকর। এতে থাকা জিঞ্জেরলসহ বিভিন্ন যৌগ প্রদাহ ও জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। তবে ল্যাবরেটরিতে কোনো উপাদানের কার্যকারিতা প্রমাণিত হলেই তা মানবশরীরে একইভাবে কাজ করবে এমন নিশ্চয়তা নেই। সর্দি-কাশি বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে আদার ভূমিকা থাকলেও তা চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে নিশ্চিত নয়। রান্নায় আদা ব্যবহার করা সহজ উপায় এবং গরম পানীয় হিসেবে এটি কাশির উপশম দেয়। তবে অতিরিক্ত আদা সেবনে বুকজ্বালা বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে।

পুষ্টিবিদ আরও উল্লেখ করেন, যাদের অম্লতা বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য খালি পেটে ভিনেগার ও লেবুর মিশ্রণে তৈরি এই পানীয়টি অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই জোর করে এটি পান করার প্রয়োজন নেই। এর বিকল্প হিসেবে দই, ওটস বা ফলের পানীয়র সঙ্গে অল্প হলুদ মিশিয়ে নেওয়া যায় অথবা আদা-হলুদ দিয়ে স্যুপ তৈরি করা যেতে পারে। উপকরণগুলোর পরিমাণ ব্যক্তিগত সহনশীলতা ও স্বাদের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা উচিত।

পরিশেষে, তিনি জানান যে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যা কেবল একটি পানীয় দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সামগ্রিক সুস্থতার জন্য প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, ডিম, মাছ এবং দুধের মতো পুষ্টিকর আমিষ রাখা জরুরি। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম এবং ধূমপান বর্জনের মতো জীবনযাত্রার পরিবর্তন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে অপরিহার্য।