রাঙামাটির দুর্গম অঞ্চলগুলোতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পৌঁছানো এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় এক ১২ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর অভিজ্ঞতার আলোকে জানা গেছে, এখানকার অনেক শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন কাপ্তাই হ্রদ এবং দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে স্কুল যেতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন প্রবল বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া বিরাজ করে, তখন তাদের এই যাতায়াত আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হিসেবে নৌপথ ও পাহাড়ি পথ ব্যবহৃত হয়। তবে আবহাওয়া খারাপ থাকলে নিরাপদভাবে বিদ্যালয়ে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই দীর্ঘ ও কঠিন পথের কারণে শিক্ষার্থীদের একদিকে যেমন প্রচুর শারীরিক শ্রম ব্যয় করতে হয়, অন্যদিকে সময়েরও অপচয় ঘটে। ফলে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

কেবল যাতায়াত সমস্যাই নয়, শিক্ষার গুণগত মানের ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষক সংকট। অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষকের অভাব থাকায় নিয়মিত পাঠদান সঠিক নিয়মে সম্পন্ন হচ্ছে না, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান কমিয়ে দিচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিশুরা এই দ্বিমুখী সমস্যার কারণে তাদের শিক্ষাজীবনে প্রতিনিয়ত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে।

এই পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ওই শিক্ষার্থী দাবি করেছেন যে, রাঙামাটির প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় শিক্ষাসুবিধা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। পাহাড় কিংবা হ্রদের ভৌগোলিক অবস্থান যেন কোনো শিশুর জ্ঞান অর্জনের পথে অন্তরায় হয়ে না দাঁড়ায় এবং সব শিশু সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ পায়, এটাই তার প্রত্যাশা।