২০২৬ সালের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ষষ্ঠ ও সপ্তম অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা সামনে এসেছে। এই পাঠ্যসূচির ষষ্ঠ অধ্যায়ে বাঙালির আদি সাহিত্যিক নিদর্শন এবং শিল্পকলা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।

বাঙালির প্রথম সাহিত্যকর্ম হিসেবে পরিচিত 'চর্যাপদ' সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, নেপালের রাজদরবার থেকে পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী প্রথম এই নিদর্শনগুলো খুঁজে পান। পরবর্তীতে ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বৌদ্ধ সাধকদের দ্বারা এই পদগুলো রচিত হয়েছিল। এই সাহিত্যের রচয়িতাদের মধ্যে লুই পা এবং কাহ্ন পা অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এই পদগুলোর শাব্দিক অর্থের পাশাপাশি ভাবার্থ অনুধাবনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অনন্য অবদানের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস প্রণয়ন, চর্যাপদের সময়কাল নির্ধারণ এবং আঞ্চলিক ভাষার অভিধান তৈরি করা।

শিল্পকলার ক্ষেত্রে 'টেরাকোটা' বা পোড়ামাটির শিল্পের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মাটির পাত বা ফলকে ছবি খোদাই করে তা পুড়িয়ে স্থায়ী রূপ দেওয়াকেই টেরাকোটা বলা হয়। এর অন্যতম উদাহরণ হিসেবে দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দিরের কথা বলা হয়েছে, যেখানে এই পদ্ধতিতে রামায়ণের বিভিন্ন কাহিনী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের বিশেষ ধারা 'পুঁথিসাহিত্য' নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে। পারস্যের রোমান্টিক আখ্যান ও কল্পকাহিনি অবলম্বনে রচিত এই সাহিত্য মুসলমান সমাজে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। তৎকালীন সময়ে পুঁথিপাঠের আসর বসত এবং হাতে লিখে এই পুঁথিসমূহ সংরক্ষণ করা হতো। উল্লেখযোগ্য কিছু পুঁথির মধ্যে রয়েছে 'লাইলি-মজনু', 'ইউসুফ জুলেখা', 'জঙ্গনামা' এবং 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল'।

সপ্তম অধ্যায়ের আলোচনায় ব্যক্তির সামাজিকীকরণে বিভিন্ন মাধ্যমের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এখানে গণমাধ্যম এবং আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। যেমন, সংবাদপত্র মানুষকে বিশ্ব ও সমাজ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেয় এবং রেডিও বা বেতারের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বোধ ও গণসচেতনতা তৈরি হয়। অন্যদিকে, টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশপ্রেম জাগ্রত হয় এবং চলচ্চিত্র মানবিকতা ও সহমর্মিতার মূল্যবোধ তৈরি করে। সবশেষে, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মানুষের পারস্পরিক বন্ধন এবং ভাব বিনিময়ের প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করে তোলে। এই শিক্ষণীয় বিষয়গুলো ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান উপস্থাপন করেছেন।