আরবি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল, যার আক্ষরিক অর্থ হলো 'প্রথম বসন্ত'। এই মাসটি মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত বরকতময় ও তাৎপর্যপূর্ণ। মুহাদ্দিস আব্দুল্লাহ আলমামুন আশরাফী এই মাসের চারটি বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, এই মাসেই পৃথিবীতে আগমন ঘটেছিলেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত মহানবী মুহাম্মদ (সা.)। দ্বিতীয়ত, নবীজি (সা.)-এর বয়স যখন চল্লিশ বছর পূর্ণ হয়, তখন এই মাসেই তিনি নবুয়ত লাভ করেন এবং জগৎশুদ্ধির দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়। তৃতীয়ত, মক্কা মোকাররমা ছেড়ে মদিনা মোনাওয়ারায় হিজরত করে নবীজি (সা.) পৌঁছান ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার। চতুর্থত, রেসালাতের দায়িত্ব পালনের পর ইসলাম ধর্মের পূর্ণতা লাভ এবং প্রভুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন এই মাসেই।

এই বিশেষ মাসটি আসার সাথে সাথে মুমিনদের হৃদয়ে মহানবী (সা.)-এর কথা স্মরণ হয়ে ওঠে এবং আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। উল্লেখ্য যে, আল্লাহর দেওয়া বড় কোনো নেয়ামতের স্মরণে আনন্দ প্রকাশ করা মন্দ কিছু নয়, তবে তা অবশ্যই শরিয়তের নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে হতে হবে।

রবিউল আউয়ালের আমল প্রসঙ্গে জানানো হয়েছে যে, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহতে এই মাসের জন্য আলাদা কোনো নির্দিষ্ট আমলের কথা বর্ণিত নেই। জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, আর তার একমাত্র পথ হলো শরিয়াহর যথাযথ অনুসরণ এবং বিদআত পরিহার করা। তবে এই মাসটিকে আরও ফলপ্রসূ করতে কয়েকটি বিশেষ আমলের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অন্যান্য মাসের মতো প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখা এবং মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিজের রোজা পালন করা। এছাড়া অধিক পরিমাণে দরুদ শরিফ পাঠ এবং অত্যন্ত গভীর মনোযোগের সাথে নির্ভরযোগ্য কোনো সিরাত গ্রন্থ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সবশেষে, সিরাত থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলো নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং তা অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।