প্রস্তুতির চরম অভাব এবং নানা বিষয়ে অসন্তোষ নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশের শীর্ষ ফুটবল লিগের দলগুলো। ফুটবল লিগের পাশাপাশি আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ফেডারেশন কাপ। তবে অধিকাংশ ক্লাবের অভিযোগ, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) খুব অল্প সময়ের নোটিশে ফিকশ্চার ঘোষণা করেছে, যার ফলে দলগুলো ঠিকমতো অনুশীলন করার সুযোগ পায়নি।
বাফুফে শুরুতে আগস্ট মাসেই চ্যালেঞ্জ কাপ, ফেডারেশন কাপ এবং লিগের প্রথম রাউন্ডের সূচি নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু বসুন্ধরা কিংস এবং আবাহনীর ওপর ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞা থাকায় সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হয়নি। পরবর্তীতে চ্যালেঞ্জ কাপ বাতিল করে ১২ সেপ্টেম্বর নতুন সূচি ঘোষণা করা হয়। সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়েই লিগ শুরু হওয়ায় অনেক ক্লাব এখনো তাদের বিদেশি খেলোয়াড়দের আনতে পারেনি। ঢাকা ওয়ান্ডারার্স এবং রহমতগঞ্জের মতো ক্লাবগুলোর நிர்வாகிகள் জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তারা বিদেশিদের আনতে পারেননি, ফলে তাদের ছাড়াই প্রাথমিক ম্যাচগুলো খেলতে হবে। এমনকি আবাহনী লিমিটেডের কোচ মারুফুল হকও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকা খেলোয়াড় এবং বিদেশিদের অনুপস্থিতিতে তারা কীভাবে খেলবে তা অনিশ্চিত।
খেলোয়াড়দের মধ্যেও এই প্রস্তুতির অভাব নিয়ে হতাশা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি ক্লাবের ডিফেন্ডার মেহেদী হাসান জানান, খুব অল্প সময়ের অনুশীলন নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নামা অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া এবারের মৌসুমের এক বিরল দিক হলো, জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক മത്സര চলাকালীন সময়েই ঘরোয়া ফুটবল চলবে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আসিয়ান কাপ অনুষ্ঠিত হবে, যার ফলে বিভিন্ন ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের ক্যাম্পে ব্যস্ত থাকবেন। এতে ক্লাবগুলোর শক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে। জাতীয় দলে থাকা তাদের ৯ জন খেলোয়াড়কে ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বাফুফের সঙ্গে আলোচনা করে তারা নিজেদের প্রথম ম্যাচটি ৫ অক্টোবরের পরে সরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘের সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে প্রশ্ন তুলেছেন কেন কেবল নির্দিষ্ট কিছু ক্লাবের কথা বিবেচনা করা হলো। পিডব্লুডি স্পোর্টস ক্লাবের টিম ম্যানেজার ইফতেখারুল ইসলামও জানান, ১৩ তারিখ সূচি দিয়ে ১৮ তারিখ খেলা শুরু করা বাস্তবসম্মত নয়। এর আগে ১০টি ক্লাব যৌথভাবে লিগ পেছানোর অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিলেও বাফুফে তা আমলে নেয়নি।
এবারের লিগে কিছু নতুন নিয়ম এবং পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সাফ অঞ্চলের ফুটবলারদের কোটা পাঁচজন থেকে কমিয়ে তিনজনে নামিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ সময় পর দলসংখ্যা বাড়িয়ে ১৩টি করা হয়েছে, যা শেষবার ২০১০-১১ মৌসুমে দেখা গিয়েছিল। এবারের লিগ সাতটি ভিন্ন ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে নতুন যুক্ত হয়েছে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়াম। 이곳কে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করবে ঢাকা ওয়ান্ডারার্স এবং ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস। লিগের প্রথম দিনে কিংস অ্যারেনায় চট্টগ্রাম সিটি এফসি মুখোমুখি হবে ফর্টিসের, গাজীপুরে রহমতগঞ্জের প্রতিপক্ষ পুলিশ, এবং মানিকগঞ্জে আবাহনীর মুখোমুখি হবে পিডব্লুডি। এছাড়া চাঁদপুরে ইয়ংমেনস-ওয়ান্ডারার্স এবং গোপালগঞ্জে ব্রাদার্স-সিটি ক্লাবের লড়াই হবে।




