দেশের দ্রুত নগরায়ণের ফলে ব্যক্তিগত যানবাহনের চাহিদা বাড়লেও বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রথাগত জ্বালানিচালিত গাড়ির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক (ইভি) এবং হাইব্রিড যানবাহনের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই টেকসই রূপান্তরকে আরও গতিশীল করতে সহজ অর্থায়নের বিশেষ সুযোগ নিয়ে এসেছে সিটি ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সবুজ নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে সিটি ব্যাংক ইভি ও হাইব্রিড গাড়ি ক্রয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা অথবা গাড়ির মোট মূল্যের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ প্রদান করছে। বিপরীতে, সাধারণ তেলের গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ লাখ টাকা বা মূল্যের ৬০ শতাংশ। সবুজ অর্থায়নের ক্ষেত্রে বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের অগ্রভাগে রয়েছে সিটি ব্যাংক। গত ১৮ মাসে ব্যাংকটি প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি পরিবেশবান্ধব গাড়ির জন্য ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার অটো লোন প্রদান করেছে, যা ওই সময়ের মোট অটো লোনের ৭০ শতাংশ।
ঋণগ্রহীতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবং তাদের পরিশোধ করার সক্ষমতা যাচাই করে সর্বোচ্চ ৬ বছর মেয়াদে এই ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া গ্রাহকরা চাইলে যেকোনো সময়ে ঋণের পুরো টাকা বা নির্দিষ্ট অংশ অগ্রিম পরিশোধ করার সুযোগ পাবেন। বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সুদের হার এবং প্রসেসিং ফি নির্ধারিত হয়। দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে সিটি ব্যাংকের ৮০০টিরও বেশি টাচ পয়েন্ট এবং দক্ষ সেলস টিমের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার মাত্র ১ দিনের মধ্যে ঋণ অনুমোদন করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯০০টি গাড়ি পরিবেশকের সঙ্গে এই ব্যাংকের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।
ব্যাংকটি অটো লোন খাতের শুরু থেকেই ১৫ হাজারেরও বেশি গ্রাহককে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির ‘ইউএনইপি ফাইন্যান্স ইনিশিয়েটিভ’-এর দায়িত্বশীল ব্যাংকিং কাঠামোর একমাত্র বাংলাদেশি সদস্য হিসেবে সিটি ব্যাংক তার অবস্থান সুদৃঢ় করেছে, যার পাশাপাশি তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই রেটিংয়েও শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। সিটি ব্যাংকের মতে, পরিবেশবান্ধব যানবাহনে এই বিনিয়োগ কেবল গাড়ি কেনা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টায় বড় ভূমিকা রাখবে।




