দেশের সাধারণ মানুষকে সামাজিক নিরাপত্তা দিতে চালু করা সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। আগামী বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই প্রস্তাবনাগুলো পেশ করা হবে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। মোট ১১টি আলোচ্যসূচি এই বৈঠকে স্থান পেয়েছে, যার মধ্যে পর্ষদের অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পেনশনের বয়সসীমা কমানো। বর্তমান নিয়মে ৬০ বছর বয়স হলে পেনশন পাওয়া যায়, তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী এটি কমিয়ে ৫৫ বছর করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে টাকা উত্তোলনের নিয়মে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় একবার কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হলে তা থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই এবং টাকা উত্তোলনের নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক যদি পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মুখে পড়েন, তবে বিশেষ বিবেচনায় তিনি টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।
পারিবারিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নমিনিদের সুবিধার বিষয়েও বড় পরিবর্তন আসছে। বর্তমান নিয়মে চাঁদাদাতা মারা গেলে পরিবারের সদস্যরা খুব সীমিত সময়ের জন্য পেনশন পান। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন।
ধর্মীয় বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত সুবিধার কথা চিন্তা করে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে একটি 'ইসলামিক ভার্সন' বা সুদমুক্ত ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা হবে। পাশাপাশি, গ্রাহকদের জন্য স্বাস্থ্য বিমা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মাসিক ১০ থেকে ২০ টাকা প্রিমিয়ামের বিনিময়ে এই বিমা সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি ও মুনাফার হারের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে আর্থিক সেবাদাতাদের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংক, ডাক বিভাগ এবং এমএফএস (MFS) প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি নিবন্ধনে ১৫ টাকা কমিশন পায়, যা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, পর্ষদের অনুমোদনের পর এই কার্যক্রমগুলো চালু করা হবে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস—এই চারটি স্কিমের মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি মানুষকে আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে এই ব্যবস্থা চালু হয়। তিন বছরে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন এবং মোট ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা জমা হয়েছে। তবে প্রবাস কর্মসূচিতে সাড়া সবচেয়ে কম, যেখানে নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন। গ্রাহকদের মতে, ব্যাংকের তুলনায় কম রিটার্ন এবং তাৎক্ষণিক সুবিধার অভাবই এই কর্মসূচির প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে।




