বিশ্বের দুই প্রধান পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসি-র চীন সংবাদদাতা লরা বিকার এবং মার্কিন সম্পাদক সারা স্মিথ এই বৈঠকের গুরুত্ব এবং এর ফলে দুই দেশের সামনে কী কী চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ রয়েছে তা বিশ্লেষণ করেছেন।
এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশ কিছু উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সম্প্রতি পেন্টাগনে ৯/১১ স্মৃতিসৌধের కార్యక్రమంలో প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রশংসা করেন এবং ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিয়ের অনুষ্ঠানে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় এই অভিযোগ তোলা হয়, যাদের মধ্যে দুজন শিশু ছিল।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি প্রমাণিত তেল খনির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে বর্তমানে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। টেক্সাসে রিপাবলিকান পার্টির মিডটার্ম কনভেনশনে এই বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতিকে দায়ী করেছেন এবং দাবি করেছেন যে, আসন্ন নির্বাচনের পর এই দাম হ্রাস পাবে।
সামরিক খাতের কথা বলতে গেলে, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। কিম জং উনের সাথে তার 'খুব ভালো সম্পর্কের' কথা উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। পাশাপাশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মার্কিন রাডার জেট এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবি সামনে এসেছে, যা সামরিক প্রস্তুতির প্রশ্নে নতুন প্রশ্ন তুলছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকটি বিশ্বশান্তি এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।




