বাংলাদেশের সাথে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক এবং ভবিষ্যৎ-মুখী সম্পর্ক স্থাপনের প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ভারত। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিদ্যমান কাঠামোগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ভারত সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এটাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে সামনে এল যখন বাংলাদেশ পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, এই নিয়োগ এবং সফরের আলোচনা কি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে? জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের সাথে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক কামনা করে এবং সেই অভিমুখেই তারা এগিয়ে যেতে চায়।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতির আরেকটি লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় আসন্ন বহুপক্ষীয় যুদ্ধবিমান মহড়া 'তরঙ্গ শক্তি'-র কথা। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত রাজস্থানের যোধপুর এয়ার ফোর্স স্টেশন ও পার্শ্ববর্তী ঘাঁটিতে এই মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। ভারত বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বাংলাদেশ এই মহড়ায় অংশ নিতে তাদের সি-১৩০ জে যুদ্ধবিমান পাঠাবে। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং আরব আমিরাতের পাশাপাশি বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে, যেখানে আরও ৩২টি দেশ পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে প্রথম এই মহড়ায় বাংলাদেশ কেবল পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নিয়েছিল।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তিনটি পূর্বশর্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সোয়াল তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানান, এ বিষয়ে বলার থাকলে পরবর্তীতে জানানো হবে। বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে বৈঠক করবেন। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে তাঁর কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়ে জয়সোয়ালের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়।