বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে দিল্লিতে পরবর্তী হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করার সরকারি সিদ্ধান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি দিয়েছে ভারত। মঙ্গলবার হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিয়ামের নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র বা 'অ্যাগ্রিমোঁ'-র একটি অনুলিপি ইতিমধ্যে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। এর ফলে সিয়ামের নিয়োগ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা বা জল্পনা চলছিল, তার অবসান ঘটল। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট দাবি করেছিল যে, ভারত এই নিয়োগের বিষয়ে সম্মতি দিতে বিলম্ব করছে।
পেশাদার কূটনীতিক আসাদ আলম সিয়াম ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি বর্তমান হাই কমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। অন্যদিকে, রিয়াজ হামিদুল্লাহকে জেনিভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে সরকার। আসাদ আলম সিয়ামের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জুনে পররাষ্ট্রসচিব হওয়ার আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ২০২৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অস্ট্রিয়ায় এবং ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ফিলিপিন্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি। এর বাইরে ইতালির মিলানে প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাই কমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে জুনিয়র কূটনীতিক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। দেশে থাকাকালীন তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল প্রধান, ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্রসচিবের দপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়ার প্রচেষ্টার মধ্যেই এই নিয়োগের অনুমোদন এল। ভারত যখন দীনেশ ত্রিবেদীকে হাই কমিশনার হিসেবে ঢাকায় পাঠায়, তখন ঢাকা সিদ্ধান্ত নেয় যে দিল্লিতে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে পাঠানো হবে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর উভয় পক্ষই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। তবে ভারতে শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলন পরিস্থিতি পুনরায় জটিল করে তোলে। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে এবং দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য তারেক রহমানকে ভারত আমন্ত্রণ জানালেও বাংলাদেশ ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়নি এবং দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টিও বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে আসাদ আলম সিয়ামকে।




