ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিকাব) আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় অর্ধেক রপ্তানি হয় ইউরোপের বাজারে, তাই ইউরোপের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সাথে গভীরভাবে জড়িত।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এর আগে কারিগরি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে এয়ারবাস কেনার আগ্রহ দেখিয়েছিল। জঁ-মার্ক সেরে-শারলে বলেন, বিশ্বের বড় বিমান সংস্থাগুলো সাধারণত বোয়িং এবং এয়ারবাস—উভয় কোম্পানির উড়োজাহাজই তাদের বহরে রাখে যাতে কোনো একক কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল হতে না হয়। তিনি একটি বিশেষ কারিগরি সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, একমাত্র এয়ারবাসের উড়োজাহাজই ঢাকা থেকে বিরতিহীনভাবে আমেরিকার পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম, যা বোয়িংয়ের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। তাই বিমানের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নয়, বরং যৌক্তিক ও কারিগরি কারণে নেওয়া হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি প্রসঙ্গে ফরাসি রাষ্ট্রদূত জানান, এ নিয়ে ফ্রান্স বা ইউরোপের কোনো উদ্বেগ নেই। ইউরোপ কোনো সম্পর্ক চাপিয়ে দেওয়ার নীতিতে বিশ্বাস করে না, বরং তারা বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রকৃত অংশীদার হতে চায়। তিনি জানান, বোয়িং ২০৩১ বা ২০৩৫ সালের মধ্যে কিছু উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে সক্ষম হতে পারে, যা একটি বাণিজ্যিক বিষয়। তবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এখনও এয়ারবাসের প্রতি আগ্রহ বজায় রেখেছে এবং এই বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

চুক্তি প্রক্রিয়ায় বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, এই ধরনের জটিল কাজে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ভুল হওয়ার অবকাশ না থাকে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আলোচনা সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং এর ফলাফল ইতিবাচক হবে। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি কোনো সরকারি চুক্তি নয়, বরং বিমান ও এয়ারবাস কোম্পানির মধ্যকার একটি সরাসরি বাণিজ্যিক চুক্তি। তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে চিন্তিত নন, তবে একটি প্রতিযোগিতামূলক ও সমান সুযোগের পরিবেশের ওপর জোর দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত জানান, জুলাই সনদের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর ফ্রান্স কড়া নজর রাখছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের অধিকার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে ফ্রান্স বরাবরই তাদের মতামত সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়। ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।