যুক্তরাষ্ট্রের ওরিগন অঙ্গরাজ্যের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল ঘুরে দেখার এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে। পোর্টল্যান্ড থেকে পশ্চিমমুখী সড়ক ধরে ওশানসাইড ও কেপ মিয়ারস ভ্রমণে বের হন এক দর্শনার্থী। পথে টিলামুক শহরটি দুগ্ধজাত পণ্য, বিশেষত পনির উৎপাদনের জন্য পরিচিত। জুলাইয়ের শেষ বিকেলে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ ও হালকা বৃষ্টির মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছান তারা।

ওশানসাইড শহরটি সমুদ্রপারের নৈসর্গিক দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত। সবুজ পাহাড়ের ঢালে দোচালা ধূসর ও সাদা রঙের বাড়িগুলো ছবির মতো সুন্দর। সেখানে ভাড়া করা কাঠের তিনতলা বাড়ির বারান্দা থেকে দিগন্তবিস্তৃত মহাসাগর দেখা যায়। বিকেল সাতটায় সৈকতে গিয়ে দেখা মেলে থ্রি-আর্ক রক নামে পরিচিত তিনটি গোলাকার পাহাড়ের, যা সমুদ্রের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, একটু দক্ষিণে নেটার্তে এলাকায় ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়।

কেপ মিয়ারস অঞ্চলে পৌঁছে দর্শনার্থীরা দেখতে পান প্রাচীন বনাঞ্চল। ওরিগন স্টেট পার্কের অংশ এই বনে ৭০ থেকে ২৪০ বছর বয়সী সিটকা স্প্রুস ও ১০০ থেকে ২০০ বছর বয়সী ওয়েস্টার্ন হেমলক গাছের আধিক্য রয়েছে। বুনো বেরি, ফার্ন ও মাশরুমজাতীয় উদ্ভিদও চোখে পড়ে। এখানকার একটি বিরল আকর্ষণ হলো ৭৫০ বছরের বেশি বয়সী একটি সিটকা স্প্রুস গাছ। প্রবেশমুখ থেকে আধা কিলোমিটার হেঁটে গেলে মিলবে প্রায় ৪৪ মিটার দীর্ঘ ও ১৪ মিটার পরিধির এই বৃক্ষটি। এ ছাড়া অক্টোপাস আকৃতির আরেকটি সিটকা স্প্রুস গাছও রয়েছে, যার বয়স ২৫০ থেকে ৩০০ বছর বলে ধারণা করা হয়।

পাখিপ্রেমীদের জন্য কেপ মিয়ারস একটি স্বর্গ। পেরেগ্রিন ফ্যালকন, গাঙচিল, টেকো ইগল, বাদামি পেলিক্যান, মারে, পানকৌড়িসহ নানা প্রজাতির পাখি দেখা যায়। পাহাড়ের গায়ে নীল পানির ঢেউ আছড়ে পড়ার দৃশ্য ও পাদদেশের গুহায় পাখিদের বিচরণ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। তবে তিমি, সিল বা সি-লায়নের দেখা মেলেনি সেদিন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, ঠান্ডা বাতাস ও কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম ছিল; তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকলেও বাতাসের তীব্রতায় শীত অনুভূত হয়।

১৮০০ শতকের শেষার্ধে ওরিগন উপকূলে স্থাপিত ৯টি বাতিঘরের একটি কেপ মিয়ারসে ১৮৮৮ সালে নির্মিত হয়। এক টন ওজনের মৌচাক আকৃতির লেন্সের বহির্ভাগ প্রিজম দিয়ে তৈরি, যা ৩৪ কিলোমিটার দূর থেকে দেখা যেত। কেরোসিন লন্ঠনের লেন্সে লাল কাচের আবরণ থাকায় পর্যায়ক্রমে লাল-সাদা রশ্মি প্রক্ষেপণ করা হতো। ১৯৬৩ সালে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালু হলেও ২০১৪ সালে বাতিঘরটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।

ভূতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলের কালো পাহাড়গুলো প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগের ব্যাসাল্ট আগ্নেয়শিলায় গঠিত। লাভার প্রবাহ বারবার এসে জমা হওয়ায় শিলার রং ও গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়। সবচেয়ে ওপরের অংশে হলুদ বেলেপাথরের স্তর রয়েছে, যা নবীন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তা এখনো গতিশীল, যার প্রমাণ আগ্নেয়গিরি, ভূকম্পন ও চ্যুতি রেখা। ভ্রমণকারী লেখক বলেন, স্বল্প সময়ে পুরো ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া বোঝা সম্ভব নয়, তবে অভিজ্ঞতা ছিল চমৎকার ও অবিস্মরণীয়।