কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরামর্শে দ্রুত ওজন কমানোর নতুন এক কৌশল সামনে এল। ইনস্টাগ্রামে বায়োহ্যাকার ও লাইফ কোচ নোহা লেইথ জানিয়েছেন, কীভাবে এআই ‘৩০ দিনে ৩০ পাউন্ড’ (প্রায় ১৩.৬ কেজি) কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে। তাঁর মতে, এই পথ শুধু কম খাওয়া বা অতিরিক্ত কার্ডিও নয়, বরং শরীরের ভেতরের ভারসাম্যই আসল চাবিকাঠি।

নোহা এআই-কে প্রশ্ন করেছিলেন, যদি এটি মানুষ হতো, তাহলে কীভাবে এত অল্প সময়ে এতটা ওজন কমাত। জবাবে এআই বেশ কয়েকটি ধাপ উল্লেখ করেছে। প্রথমেই বলেছে, অতিরিক্ত মেদ আসলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ও শরীরের প্রদাহের ফল। তাই প্রথমে এই মূল সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমোনের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা জরুরি, কারণ তা না হলে ফ্যাট কমানো সম্ভব নয়। তৃতীয়ত, পূর্বপুরুষদের মতো খাদ্যাভ্যাসে ফেরা—অর্থাৎ উচ্চ চর্বি ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার খেতে হবে, আর পুরোপুরি বাদ দিতে হবে চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার। চতুর্থত, বড় পেশিগুলো সক্রিয় করে এমন ব্যায়াম করতে হবে, যাতে ফ্যাট বার্নিং হরমোন নিঃসৃত হয়। সবশেষে গভীর ঘুমকে প্রাধান্য দিতে হবে, কারণ এটি প্রাকৃতিক ফ্যাট বার্নের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নোহার দাবি, এই পরিকল্পনা মানে অনাহার নয়। তাঁর ভাষায়, শরীরের ভেতরের বিষাক্ত উপাদান, প্রদাহ ও হরমোনের গোলযোগ মেটাবলিজমকে ধীর করে দেয়। তাই প্রথমে সেগুলো ঠিক করা দরকার। তিনি আরও পরামর্শ দিয়েছেন, ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়াতে হবে, প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, প্রতিদিন হাঁটতে হবে এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, ২০২৫ সালে ওজন কমানো মানে কেবল ডায়েট নয়, এটি আসলে এক ধরনের ‘মেটাবলিক রিসেট’।

তবে পুষ্টিবিদদের মতামত ভিন্ন। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, এত অল্প সময়ে এতটা ওজন কমানো প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ নয়। প্রত্যেকের শরীরের গঠন ও বিপাকক্রিয়া আলাদা, তাই এই ধরনের কঠোর পরিকল্পনা শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অন্যথায় শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।