রাজনীতিতে চেহারার প্রভাব কতটা গভীর হতে পারে, তা আবারও প্রমাণিত হলো নিউইয়র্কে। শহরের মেয়র জোহরান মামদানির প্রতিরূপ হওয়ার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে, যেখানে পুরস্কার ছিল মাত্র ১০০ ডলার। তবে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো, শতাধিক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন এই অদ্ভুত আয়োজন দেখতে।

গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত তরুণ মেয়র মামদানি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়। তাঁর চুলের স্টাইল, দাড়ি, স্যুট, এমনকি নিউইয়র্ক নিক্সের জার্সি—সবকিছুই এখন প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু। স্থানীয় আইন অনুযায়ী পার্কে অনুমতি না থাকায় পুলিশ প্রথমে সবাইকে সরিয়ে দেয়, পরে আয়োজনটি ফুটপাতে স্থানান্তরিত হয়। শহরের গণতান্ত্রিক চর্চায় এমন ছোটখাটো স্থানান্তর নতুন কিছু নয়।

বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয় আমাদেও ফুস্কাকে। বয়সে মেয়রের চেয়ে ছয় বছরের বড় এই কমেডিয়ান আগে থেকেই মামদানির লুক-অ্যালাইক হয়ে ভিডিও তৈরি করতেন। প্রতিযোগিতার দিন তিনি স্যুটের ভেতরে নিক্সের জার্সি পরে এসেছিলেন—ঠিক সেই লুক, যেদিন মেয়র চ্যাম্পিয়নশিপ উদযাপন করেছিলেন। দর্শকদের করতালিতে বিচারকরা তাঁকেই সেরা মনে করলেন, আর ১০০ ডলার উঠে গেল তাঁর পকেটে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা অন্যরা ছিলেন নানা সাজে। কেউ পরেছিলেন বাদামি স্যুট—মামদানির নির্বাচনী পোশাক, কেউ বা রুপার আংটি আর লাল-কালো টাই পরে মিলিয়ে নিতে চেয়েছেন মেয়রের স্টাইল। একজন তো শার্ট খুলে এপ্রোন পরে দাঁড়ালেন, যেন মনে করিয়ে দেন মেয়রের ‘মিস্টার কার্ডামম’ র‍্যাপ ক্যারিয়ারের কথা। রাজনীতিবিদের পুরোনো গানও যে কস্টিউম হয়ে উঠতে পারে, তার প্রমাণ মিলল এই আয়োজনে।

প্রশ্ন করা হয়েছিল প্রিয় পিৎজা কী—কিন্তু জেতার মানদণ্ড ছিল সম্পূর্ণ লুকভিত্তিক। নীতি বা ইশতেহার নয়, বরং চেহারা আর পোশাকই এখানে মুখ্য হয়ে উঠল। নিউইয়র্কের তরুণ প্রজন্ম মেয়রকে যেমন ভোট দেয়, তেমনি তাঁর লুক-অ্যালাইক খুঁজে বেড়ায়—দুটোই ভালোবাসার প্রকাশ।

বাংলাদেশে এমন কোনো প্রতিযোগিতা হলে প্রশ্নটা বদলে যেত—প্রিয় পিৎজার বদলে প্রিয় ভর্তা, কিংবা প্রিয় নেতার প্রিয় গান। কিন্তু মূল বার্তা একই থাকত: ক্ষমতার মুখ যখন মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠে, তখন সেই মুখের অনুকরণে মানুষ মেতে ওঠে—কখনো ব্যঙ্গে, কখনো ভালোবাসায়, আর কখনো ১০০ ডলারের লোভে। খবরটি এপি-র প্রতিবেদন অবলম্বনে প্রস্তুত করা হয়েছে।