বন্দরের সালেহনগর এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বন্দর দক্ষিণ শাখার যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ আল আমিনকে (বুলবুল) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরদিন শুক্রবার নিহতের ছোট ভাই জোবাইদ আল আমিন ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি শেখ সিফাতকে (৪৫) রোববার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালত শেখ সিফাতসহ মোট ৭ আসামির প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া চার নারী আসামির প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ডও অনুমোদন দেওয়া হয়।
তবে আদালতে হাজিরের মুহূর্তে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মী ও নিহত ব্যক্তির স্বজনেরা পুলিশের নিরাপত্তাবেষ্টনীর ভেতরেই শেখ সিফাতকে লক্ষ্য করে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং একপর্যায়ে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। মারধরের এক পর্যায়ে আসামির পরনের কাপড় খুলে যায়। আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ প্রথম আলোকে জানান, লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাঁকে পিটিয়েছেন এবং পুলিশের ওপরও হামলার চেষ্টা করেছেন। স্বজন হারানোর কারণে বিক্ষোভকারীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে নেওয়া হলে শেখ সিফাত ‘পুষ্পা’ সিনেমার চরিত্রের অনুকরণে অঙ্গভঙ্গি করেন। হত্যা মামলার প্রধান আসামির এমন আচরণ উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করে এবং বিষয়টি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহকে কেন্দ্র করে শেখ সিফাতসহ কয়েকজনের সঙ্গে জাহিদের বিরোধ তৈরি হয়। পরবর্তীতে তাঁর অটোরিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় জাহিদ মামলা করেন। ওই মামলার জেরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয় ঘণ্টার মধ্যে শেখ সিফাতসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানায়।
জাহিদ হত্যার প্রতিবাদে গত শুক্রবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহতের পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে সংগঠনটির মহানগর শাখা রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করে।




