রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ব্যবসায়ী ফারুক শেখ (৪৪)-এর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উন্মোচন হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। রোববার বিকেল পাঁচটায় রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক এসব তথ্য তুলে ধরেন। ঘটনাটি ঘটে শনিবার বেলা একটার দিকে গোয়ালন্দ পৌরসভার জামতলা বাজার-সংলগ্ন এলাকায় নিহতের নিজ বাড়িতে। ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফারুক শেখের গলা ও দুই হাত বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে তিনজনকে আটক করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখ (৪০), তাঁদের দোকানের কর্মচারী আলমগীর হোসেন (২৬) ও রুবেল শেখ (৩০)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনার মূল হোতা ছিলেন বারেক শেখ। পারিবারিক কলহের পাশাপাশি ব্যাংকে থাকা ফারুক শেখের প্রায় আট লাখ টাকার এফডিআর আত্মসাতের লক্ষ্যেই তিনি বড় ভাইকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কয়েক মাস আগে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর বাজার থেকে দুটি ধারালো দা কিনে আনেন বারেক।
হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে দৌলতদিয়া ঘাট পূর্বপাড়ার পারিবারিক দোকানের কর্মচারী আলমগীর ও রুবেলকে সঙ্গে নেওয়া হয়। তাঁদের সঙ্গে তিন হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন বারেক। সাময়িক খরচ বাবদ ওই দুই কর্মচারীকে ১ হাজার ৭০০ টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। পরদিন শনিবার নির্ধারিত সময়ে নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ফারুকের ওপর হামলা চালানো হয় এবং ধারালো দা দিয়ে তাঁর গলা ও দুই হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি ধারালো দা, রক্তমাখা পোশাক, একটি মুঠোফোন ও একটি মাস্ক জব্দ করে। রোববার রাত সোয়া নয়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল হক প্রথম আলোকে জানান, রাত আটটার দিকে গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তাঁরা সবাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম, জেলা ডিবির ওসি মফিজুল ইসলাম এবং ডিআইও-১ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখ।




